Tuesday, September 21, 2010

মুহূর্তিকা

অনেকদিন আগে লিখতাম কবিতা। সেগুলো ছিল আমার হৃদয়ের কথা। অনেক গভীর অনুভূতি, যা পারতাম না মুখে বলতে, তাই অগ্নুৎপাতের মত বেরিয়ে আসতো কবিতা হয়ে। তাতে ছন্দ ছিল কিনা জানিনা। ভাব ছিল, সে জানি। সে মেলা দিন আগের কথা। বছর তিনেক হল প্রায়। অযত্নে অবহেলায় হারিয়ে গেছে কয়েকটা। কিভাবে যেন বুকে আঘাত পেয়েছিলাম। তাই কবিতারাও অভিমানী হয়ে দিয়েছিল ছুট। কিছুদিন হল, হৃদয়ে শুনি গুন গুন। হঠাৎ হঠাৎ দেখি গুন গুন গুলো আঙ্গুলের ছোঁয়ায় শব্দ হয়ে যাচ্ছে। এগুলোর নাম দিয়েছি মুহূর্তিকা। মুহূর্তেই আসে, মুহূর্তেই হারিয়ে যায় আনমনে। হাতের কাছে কম্পিউটার না থাকলে লেখা হয় না। কিছু আবার বন্দী হয়ে যায় ডিজিটাল ডট পেন্সিলে। এইগুলোর মত। যত্ন করে গড়া না হলেও অযত্নে যেন না হারায় তাই জমিয়ে দিলেম সচলের খাতায়।

#১
বন্ধু তুমি কেমন আছ?

বন্ধু তুমি চোখের আড়াল,
চুপ করে তাই কাটে বিকাল।
অসীম আকাশ, একলা চিল;
উড়ছে একা আনন্দবিহীন।
বন্ধু তুমি কেমন আছো?
তুমি কি এখনো তেমনি হাসো?

#২
দেখিনি হৃদয় মাঝে

দেখিনি দেখিনি হৃদয় মাঝে,
শেষ বিকেলে অথবা মায়াবী সাঁঝে,
অর্থহীন কিছু গুঞ্জনের অবসরে,
কে আমার মন ছুঁয়েছে।
দেখিনি দেখিনি গত বিকেলের বর্ষনে
আঁধার মুছে রক্তিম সূর্যোদয়ে
কোন আবীরে সেজেছি শখে,
সদ্য ঘুম ভাঙ্গা চোখে,
কোন স্বপ্নের রেশ লেগে আছে।
তবু আজ জেনে গেছি,
ঘুমিয়ে ছিলাম গত রাতে,
কোন ভালোবাসার অন্তর জুড়ে।

#৩

একাকীত্বের অভিসারে

একাকীত্বের অভিসারে আমি ছুটে গেছি
সেই তুমুল বর্ষার মাঝে,
ভেজা মনে হাটু গেড়ে
জল মেখেছি আঁজল ভরে,
পূজারিনীর ভঙ্গিতে।
প্রার্থনার সুরে গেয়েছি প্রানপণে,
প্রানহীন অস্তিত্বের বন্দীশালা যাক ভেঙ্গে।
আমায় একটুখানি ঠাঁই দেবে
জীবনের প্রানোচ্ছল প্রানহীন প্রতি স্তরে?
তোমার বুকের পাঁজরে?
আমি তোমাকেও ভেজাবো,
আমার তীব্র প্রার্থনার বৃষ্টি জলে।