Saturday, April 30, 2011

বাঁধনহারা

নিতান্তই হাসি কান্নায় কেটে যায় বেলা;
মুহুর্ত গুলো ভাসে সৃষ্টির বন্যায়,
তবে কোন মহেন্দ্রক্ষণের অপেক্ষায়?
হাসতে পারা একধরণের সৃষ্টি বটে।
নিস্পৃহতাও একধরণের সৃষ্টি বটে।

আপন স্বত্তার সৃষ্টিতে বৃষ্টিতে, 
যখন তখন ভালোবেসে,
যখন তখন হারিয়ে গিয়ে,
এইতো ভালোই আছি বেঁচে।

বিকেল রোদে মন ভিজিয়ে,
ঘাষের মাঝে চুপটি করে,
পাখির ডানায় ভেসে ভেসে;
এইতো ভালোই আছি বেঁচে।


বাঁধবে আমায় কোন বাঁধনে,
স্বাধীন প্রাণের ডানা ভেঙ্গে!
হাসতে পারা একধরণের সৃষ্টি বটে।
নিস্পৃহতাও একধরণের সৃষ্টি বটে।


Wednesday, April 27, 2011

শূণ্যতা

কোথায় যেন একধরনের শূণ্যতা;
তোমাকেই ঘিরে তো চেয়েছিলাম পূর্ণতা।
কতদিন কাঁদিনি মায়ের আঁচলে,
কতদিন দেখিনা বাবার হাসি,
বাঁধতে গিয়ে ঠেলে দিলে কত দূরে;
জমাট বাঁধা অভিমান গুলো তোমাদের বলিনি।


এতো দীর্ঘদিনের সম্পর্কহীনতা
আমাকে ভীত করে সম্পর্কে।
আমার হৃদয়েও ছিল সংগীর কামনা,
একসাথে পথচলা স্বপ্নের সাধনা,
আমার হৃদয়েও ছিল বধূসাজে ফুলশয্যা,
তাই বুঝি ভালোবাসা ঝড়ে ভেজা।


বুকের মাঝে মরুভূমি খাঁ খাঁ,
সমাজ পরিবার স্বপ্ন ছিন্নতা,
আমাকে ভীত করে আজ ভালোবাসা!





Tuesday, April 26, 2011

মুক্তির মন্দিরে

আমাদের রক্তের মাঝে লুকিয়ে আছে
হিংস্রতা এবং ভালবাসার যুগপৎ কীটানু।
আমাদের স্বত্তায় মানব-পাশব আবর্তন।

ভালোবাসার কবিতা মানেই আরেক স্বত্তায় মৃত্যু নয়;
ক্রোধের কাব্য মানেই অসুন্দর নয়।

জীবন মানেই হয়তবা প্রতিদিনের দর্শন।
দুজনে হাত ধরেও হয়ে থাকে দূরত্বে মাতাল;
প্রেরণায় নীরবে বসে থাকে আলোকিত নিউরন।
প্রেমে কামে মৃত্যুর পাতাল,
চুপচাপ ভালবাসা কথা কয়।



Sunday, April 24, 2011

শুধুই ভালবাসি!

জোৎস্নার বৃষ্টিতে আজ আমার গান,
দ্বিধাহীন চিত্তের আনন্দ সাম্পান,
ভুল অন্ধকারের যন্ত্রণা অবসান,
মুক্ত স্বাধীন চঞ্চল প্রাণ।

সহস্রবার বলি, তোমাকে ভালবাসি!


Thursday, April 21, 2011

সীমানা

আমি প্রেমিকার মত ভালোবাসতে পারিনা;
এ আমার ব্যর্থতা!
ভালোবাসা হৃদয়ের আত্মজ অথবা আত্মজা!
শিশুর মত ভালোবাসি,
মায়ের মত ভালোবাসি,
আপন স্বত্তায় স্বপ্নে ভাসি।


আমি তোমাদের মত ভালোবাসতে পারিনা;
দিতে পারিনা হৃদয়ে সীমানা।


ধ্রুবতারার খোঁজে আকাশে চেয়ে থাকি,
হয়ে উঠি আত্মার সাথী।
আমি তোমাদের মত ভালোবাসিনি। 

Monday, April 18, 2011

ভালোবাসা, শুদ্ধতম আত্মার জন্যে!

ভালোবাসা, সেই শুদ্ধতম আত্মার জন্যে;
যে শিশিরবিন্দু দেখব বলে,
অপেক্ষায় থেকেছি আমি সবকটি ঋতু;
প্রথম সূর্যালোকে দেখেছি রংধনু।

ভালোবাসা, বৃষ্টি ভেজা মাটির গন্ধে,
যে ঘ্রাণ আমার বুকের মধ্যে লেগে আছে;
নয়নের নীড়ে শুদ্ধ সৌরভের লাজে,
ভালোবাসা, যে ভালোবাসে।


ভালোবাসা, হৃদয় ঠিকরানো সেই আলোকে।
আমি রক্তাক্ত হই যে আত্মার ক্ষয়ে ক্ষয়ে,
যাপন করি জীবন স্তব্ধ বাতাসে;
দেহের জঞ্জাল ছুড়ে ফেলি আস্তাকুঁড়ে।

শুদ্ধাত্মার দেখা মেলে অবশেষে;
আমারই এক পূণর্জন্মে;
মনের গহীনে স্মৃতির সেই সরল হাসিতে,
অপার্থিব ভালোবাসা লীন হলে সমস্ত স্বত্তাতে।


Saturday, April 16, 2011

ছেলেখেলা

আমার জন্য নয় আড়াল,
আমার জন্য নতুন সকাল।
আমার জন্য প্রাণের জোয়ার;
প্রহর এবার ফুল ছড়াবার।

জীবনটাকে হেসে খেলে,
দিলেম তুলে পাহাড় চূড়ে,
মৃত্যু নেব আপন করে,
সসম্মানে বৈরী ঝড়ে।

কষ্ট দেবে এই আমাকে?
পারবে কেবল ভালোবেসে।


Friday, April 15, 2011

দূর দ্বীপবাসিনী

কখনো যদি তোমাকে দেই আমার বরষার জল;
নেবে তুমি দুহাত পেতে অঞ্জলি ভরে?

তুমি জানোনি, কোন চন্দ্রালোকে দেখেছি তোমায়;
হৃদয়ের কোন কুঠুরীতে দিয়েছি ঠাঁই।
জানোনি তুমি, কোন স্রোতে ভাসিয়েছি সোনার তরী,
আমি তো কেবলি মনের জমিনে ঘরবাঁধা দূর দ্বীপবাসিনী।

বরষার জল ভেসে যাক সমুদ্রের তরঙ্গে তরঙ্গে;
আমার ডাক শোনো শঙ্খচিলের গানে,
দিশারী হয়ে রয়ে যাবো হৃদয়ের কাছে।



Monday, April 11, 2011

জলপাখি

স্নিগ্ধ বিকেল;
পুকুরের জলে পা ডুবিয়ে বসে থাকা;
মনে পড়ে সেই জলফড়িং এর কথা।
আমি তেমনি ভাসি জলে।


জলতরঙ্গে আকাশ দেখি,
আপন মনে ভাসে পল্লবী,
সে জলে ছোটে 
আকাশের ডানা মেলা পাখি;
আমি ডাকি জলপাখি।


আকাশের চঞ্চলতা দেখেছি জলে,
দেখেছি মেঘের আরেক গতি,
শিহরণে অস্থিরমতি পল্লবী;
শুধু কাঁপে নি জলপাখি।
শুভ্র রাজহাসের মত,
জলপাখির এ প্রান্ত থেকে ওপ্রান্তে ছুটাছুটি।





Saturday, April 9, 2011

মুখ, মুখোশ এবং অশরীরী



অন্ধকারে দাঁড়িয়ে থাকা নারিকেল গাছের মতন,
জানালার পাশে দাঁড়িয়ে আছে,
সারিবদ্ধ মুখের মিছিল। 
অশরীরীরা ফিসফিসিয়ে কথা বলে রাতের বাতাসে।
দেখি মুখোশের ছায়াবাজি। 


আমার বুকের ভিতর কাঁপন ধরে
মুখ, মুখোশ আর অশরীরীর স্লোগানে।
বধিরের মত কেবল হৃদপিন্ডের শব্দ শুনি।


রাত্রির অবসানে সূর্যের অপেক্ষায় থাকি।
মুখ, মুখোশ আর অশরীরীর মাঝে,
কষ্টে সৃষ্টে কেবল আমিই বেঁচে থাকি।


Friday, April 8, 2011

ঘর





ছোট্ট একটা ঘর আছে আমার বুকের মধ্যিখানে;
সেইখানেতে এক রাজা থাকে রাণীর হৃদয় চুমে,
রাণী হাসে দুষ্টুমীতে, রাজা হাসে নয়নে নয়নে,
ভালোবাসা বাঁধে বাসা মরমে মরমে।




Thursday, April 7, 2011

মোহ মায়া

মোহ মায়া, হাসো তুমি শুধুই মিছে;
জীবন তোমার ক্ষণিকের নিঃশ্বাসে।
ঘোর ফুরোলেই হারাবে খেলা,
কি হল তবে হেসে হেসে সারাবেলা!

যে মাধুরী হৃদয়ে নেই গাঁথা,
সে ফুলে হয়না পূজা।
যে হাসে মননের আয়নাতে,
সেইখানে সেধেছি তানপুরা।

মোহ মায়া, কি হল তবে হেসে হেসে সারাবেলা!
সেই তো কুড়ালে শেষে বারে বারে তিক্ত নেশা।



Sunday, April 3, 2011

বৃষ্টির ঋণ

বহুদিন আমার ভেজা হয়নি বৃষ্টিতে;
তেমনি করে, যেমন ভিজেছিলাম সেই বর্ষাতে,
স্কুলের সেই শিশু কাকের মত মন ভিজিয়ে;
ছপছপে জলে ভেজা ঘাষেতে ছড়িয়ে।


ভেজা হয়নি বহুদিন...
সোনালী বিকেলের রোদ মেখে। 
শহুরে খাঁচার ফাঁক গলে,
বাড়িয়েছিলেম হাত দুখানি সেই ছোট্টবেলাতে;
বৃষ্টির জল ছোঁব বলে।
কচি সবুজ পাতা আজও আছে হাত বাড়িয়ে।


এইবার বৃষ্টি এলে 
জানালার কাঁচ বেয়ে বর্ষার জল যাবে না নেমে।
ঢুকে যাবে হৃদয়ের গভীরে;
মিশে যাবে আমার রক্তের গোপন স্রোতে।