Monday, November 14, 2011

..............................

আমি বুঝতে পারি, এখন আমি প্রচন্ড একা
কিন্তু একা হতে আমার আর ভয় লাগে না

বরং, আরো একাকীত্বের মাঝে বুক ভরে শান্ত হতে ইচ্ছে করে


আমি জানি, ছোট্ট ভাইটি ভোলেনি আমাকে
এখনো আমার ঘর জুড়ে তার কাছে আমারই সৃত্মি
আমার পেন্সিল, আমার বই, আমার জানালা, আমার আদর
কিছুই ভোলেনি সে।
শুধু বুঝেছে, আপু সন্ধেবেলায় আর ফেরেনা
এখন আর আপুর ঘুম ভাঙ্গানো যায় না


এখন আর আমার কাউকে ভালবাসতে ইচ্ছে করে না
শুধু তোকে বুকে জড়িয়ে একটু কাঁদি।

Thursday, August 4, 2011

Love Whispers

I was a wonderful bird
Flying over and over
Without falling from cheers
I was a wonderful bird!

There was texture and colors
Colors of bright sun shower
Phoenix like a wings of fire
Blended with dream flowers.

I had my very own sky
Sweetest musics of bird fly
Sparkling nest on the tree
Rising sun had set me free.

It was late autumn
And early spring
When I got the leave's blessing
It was a winter when I was frozen.

I had a heart filled with love
I am the lost bleeding dove!
Yet I have dewdrops like tears
In my frozen heart, love whispers! 

Monday, July 18, 2011

আমার নেই শোকেস ভরা হাসির ধারা

আমি বুকের মধ্যে কষ্ট জমাই,
যখন তখন পাথরঘাটায় হোঁচট খাই,
সেই ছেলেটি সস্তা দামে আত্মা বিকোয়;
ব্যথায় কাতর মুখটি দেখে সেই ছেলেটা,
অবজ্ঞাতে গড়িয়ে পড়ে হেসে হেসেই,
মায়ার জালে হৃদয় ভাঙ্গা;
সেই ছেলেটির একধরণের মহৎ খেলাই!



আমি সুখ বেঁচি না,
নয় ভালবাসা,
নয় যে ব্যথা,
আমার নেই শোকেস ভরা হাসির ধারা;
প্রাচীন জীবন আর পারে না,
সইতে তোমার খুলি ভরা মিথ্যে কথা.
অনুভুতির দোকান খুলে,
সাজালে ঘর হরেক রকম ছলনাতে;
রঙ মাখিয়ে সং সাজিয়ে ,
বেঁচলে কতই প্রেমের খেলনা,
নামে তো সে  সফল বণিক, মানুষ না;
দিনান্তে তাই দেহগাড়ি ফেরে ঘরে,
সঙ্গে লয়ে কৃষ্ণবরণ প্রেতাত্মা!

Saturday, June 25, 2011

তৃষ্ণার সেই জলবিন্দু শূণ্য ইন্দ্রিয়ঘ্রাণে

ভালোবাসি বলেই জানি,
কতটা নিঃস্ব হতে পারে হৃদয় একাকী।
আমি তোমার চোখে রাখব না আঁখি,
হব না তোমার জন্যে উচ্ছল বাসন্তী,
ভাসবো না তোমার মাতাল প্রেমে,
চাইবো না স্পর্শের ক্ষণিক আঁধারে;
নীলকন্ঠ রক্তক্ষরণ হৃদয়ের গহীনে,
ইশারার দীপশিখা দূর বহু দূরে...
হাত বাড়িয়ে ছূয়ে দেখো,
তৃষ্ণার সেই জলবিন্দু শূণ্য ইন্দ্রিয়ঘ্রাণে,
সরে গেছি বোধের অন্তরালে অনন্ত সীমান্তে।


তোমার জন্যই সব নিস্তব্ধতা;
আমার এই মৃত্যুময় জীবন ভালোবাসা।

Saturday, June 18, 2011

অন্ধকার

মানুষ নামের ফানুস গুলো
উড়ছে কেবল অযথাই,
সুখের লোভে নষ্ট স্রোতে
ডুবছে তারা হরহামেশাই।
জীবন মানেই চিত্তবিলাস,
ভালোবাসার নেইকো আভাস।
যখন তখন ভাসে প্রেমে,
আজকে রঙ্গে কালকে রূপে,
আজকে কাঁদে স্বপ্ন মেখে,
পরশু হাসে হৃদয় ভেঙ্গে;
মুখোশ সাজায় হাস্য রসে,
তৃষিত হিয়া ক্ষুধায় জ্বলে।


মানুষগুলো ছুটছে সবে,
সুখের নেশায় মাতাল হয়ে,
ভালোবাসার ব্যবসা ফেঁদে,
সকাল বিকেল ভালোই কাটে,
মিথ্যে মায়ায় তাসের ঘরে।
আলোর মাঝে বুক চিতিয়ে,
হাঁটতে হলে মরমে মরে;
তাই স্বপ্ন খোঁজে ঘুমে ঘুমে,
নেশায় বাঁচে আদিম আঁধারে।

Monday, May 30, 2011

টকটকে লাল সূর্যটা

বারবার মুখোমুখি দাঁড়াই ব্যক্তি আমির;
বেয়াড়ার মত প্রশ্ন করি নিজেকে,
"আমার কি কোন কষ্ট আছে?"
বেয়াড়া প্রশ্নের নিরুত্তরে,
ধরে নিই আমার কোন কষ্ট নেই।
তাই কষ্টেরা উঁকি দেয় মনের আড়ালে।


যখন টকটকে লাল সূর্যের বেশে,
হেঁটে যাই ঝকঝকে রোদেলা হাসিতে হাসিতে,
তখন আমি বেমালুম ভুলে যাই,
সূর্যের অন্তরে দহন আছে।


Saturday, May 28, 2011

নীলকন্ঠ মায়া

এ কোন সুর মাধুরী ছড়ালে প্রাণে,
স্নিগ্ধ বর্ষা রাঙ্গালে ময়ূরকণ্ঠী পালকে।
নাহয় ডেকেছিলাম তোমায় গোধূলি বেলায়,
অজান্তেই জমেছিল মায়া চোখের পাতায়,
হারিয়ে গিয়েও রয়ে গেলে মৌন ছোঁয়ায়;
চলে যেতে যেতে রূপকথা রাতে আমিও তাই...
সৃত্মির নীলকণ্ঠ রেখে গেলাম দশ দিগন্তের দরজায়।



 

Thursday, May 26, 2011

ভয়ের বৃত্ত, আমাকে তুমি ভালোবেসনা


হল কি তবে শেষ তোমার ব্যস্ততা?
জমিয়ে রেখেছি অনেক করে তোমাদের ভাল থাকা।
বুকের মাঝে জমে আছে এক পৃথিবীর সব মায়া।
তোমার জন্য নয়, তোমাদের জন্য রাখা।

আমিতো কেবল ক্লান্তিবেলার গান...
নীরবতার মাঝেই আমার প্রস্থান।

দ্বিধার দিন

ক্লান্তি আমায় তাড়া করে
খুব সহজেই,
চুপকথারা থমকে দাঁড়ায়
খুব সহজেই।

ক্লান্ত আমি চুপটি করে,
মেঘের নীলে ছুটে ছুটে;
অনেক কথা জমে গেছে,
বৃষ্টি হয়ে ঝরবে বলে।

স্বপ্নগুলো ছিল রঙ্গিন;
কাঁপছে ভয়ে সামনে এসে,
তুলির ডগায় স্বপ্ন মেখে
সাজাই দ্বিধার দিন।

Friday, May 6, 2011

বাবার জন্য

প্রিয় বাবা,

কোনদিন তোমাকে আমার তুমি করে ডাকা হয়নি। সেই ছোট্টবেলা থেকে আমাকে আপনি বলতে শিখিয়েছ। কোনদিন আমার মুখ ফুটে বলা হয়নি, আমার বাবাকে আমি কতটা ভালোবাসি। বলতে পারিনি বলেই হয়ত আজো তোমাকে ছাড়া প্রিয়তম শব্দটা আমি আর কাউকে দিতে পারলাম না। আজ নিভৃতে বসে তোমাকে চিঠি লিখছি, বুকের মধ্যে একরাশ অভিমান নিয়ে লিখছি। অনেক অভিমান আমার, বড় হবার পর থেকে কোনদিন আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দাওনি বলে। কেবল নীরবে ভালবেসেছো, আর আমাকেও তোমার মত করেই নীরবে ভালোবাসতে শিখিয়েছ। সবাই যখন বলত, আমি একদম তোমার মত, আমার কি যে আনন্দ লাগতো। জমির কাকু যে তোমার ছোট্ট মেয়েকে দেখে বলেছিল, "Like father, like Daughter", আর তুমিও খুশিতে আত্মহারা হয়ে সবাইকে শুনিয়ে বেড়াতে লাগলো। তখনকার কথা তো আমার মনে নেই, কিন্তু মনে থাকার বয়স থেকে এতোবার শুনেছি এই কথা, আমি যেন দেখতে পাই... সবাই বলত, আমি দেখতে তোমার মত হয়েছি, আমি তোমার মত করে হাসি, তোমার মত চুল আমার, আর তোমার মতই পাগল আমি। পাগলের বাচ্চা উপাধি তো তোমার জন্যই পেয়েছি, তাই না বাবা? আজ পর্যন্ত জীবনে তোমাকে কয়েকটি সুন্দর মুহূর্ত ছাড়া কিছুই দেইনি। দিতে পারিনি। অথচ তুমি আমাকে নিয়ে স্বপ্নের পর স্বপ্ন দেখে গেছ। কয়েকবছর আগে মা যে কানের দুলটা দিয়েছিল, সেটা কোথায় রেখেছি, আমার মনেই নেই। কিন্তু সেই ছোট্ট বেলায় দূর বিদেশে বসে আমার জন্য প্রথম যে ছোট্ট দুটো কানের রিং পাঠিয়েছিলে, সেটা এখনো আমি সযত্নে রেখেছি। ওগুলো এখন আমার সবচেয়ে ছোট আঙ্গুলটাতেও ঢুকে না, কিন্তু আমি মাঝে মাঝেই পড়ে বসে থাকি। বড় হতে ইচ্ছা করে না বাবা। ছোট্ট শাতিল হতে ইচ্ছা করে আবার। এবার আমি তোমাকে কিছু দিতে চাই, অন্তত দেয়ার চেষ্টাটুকু করব আমি। আমার যে বাবাকে পৃথিবীর সবাই অবজ্ঞা করেছে, অবহেলা করেছে, তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করেছে, তাকে আমি সবার চেয়ে গর্বিত আসনে নিয়ে যেতে চাই। তোমার হাসিটুকু ধরে রাখতে চাই আমার ছোট্ট দু'হাতে। সারাটা জীবন তো দিয়েই গেছ, কিছুই পাওনি তুমি, এবার আমাকে শুধু আশীর্বাদটুকু দাও, আমার জন্য তোমাকে যেন কষ্ট পেতে না হয়, আমি যেন তোমাকে তোমার গর্বটুকু দিতে পারি। আমি যেন তোমার সব না পাওয়া মুছে দিয়ে সমস্ত জীবনের সাফল্য হতে পারি, তোমার সবচেয়ে সুন্দর সৃষ্টি হতে পারি। ভালো থেকো বাবা, আমৃত্যু। আর তোমার হাসিটুকু রেখো আমার জন্য।


ইতি-
তোমার
,ফুলকন্যা
,দুধকন্যা
মধুকন্যা।

Monday, May 2, 2011

I need inspiration, not just another negotiation.

I've been living with a shadow overhead
I've been sleeping with a cloud above my bed
I've been lonely for so long
Trapped in the past, I just can't seem to move on
I've been hiding all my hopes and dreams away
Just in case I ever need em again someday
I've been setting aside time
To clear a little space in the corners of my mind
All I want to do is find a way back into love
I can't make it through without a way back into love
Oh oh oh
I've been watching but the stars refuse to shine
I've been searching but I just don't see the signs
I know that it's out there
There's got to be something for my soul somewhere
I've been looking for someone to shed some light
Not somebody just to get me through the night
I could use some direction
And I'm open to your suggestions
All I want to do is find a way back into love
I can't make it through without a way back into love
And if I open my heart again
I guess I'm hoping you'll be there for me in the end
oh, oh, oh, oh, oh
There are moments when I don't know if it's real
Or if anybody feels the way I feel
I need inspiration
Not just another negotiation
All I want to do is find a way back into love
I can't make it through without a way back into love
And if I open my heart to you
I'm hoping you'll show me what to do
And if you help me to start again
You know that I'll be there for you in the end
oh, oh, oh, oh, oh

Way Back into Love - Hugh Grant (featuring: Haley Bennett)

 

You Are My Light

I have a part of my soul inside your heart
I feel the bits when you sound and when you start
You are running from fear
You are running hiding your tear
It's your smile which make me shine
It's your voice which make me fine
Something is wrong inside
You can't hide that away beside
It's me looking through your mind
I am here whenever you find
Words are not enough to express my love
Your kisses lift me the sky above
It's you for whom I fight
You don't know you are my light.

Saturday, April 30, 2011

বাঁধনহারা

নিতান্তই হাসি কান্নায় কেটে যায় বেলা;
মুহুর্ত গুলো ভাসে সৃষ্টির বন্যায়,
তবে কোন মহেন্দ্রক্ষণের অপেক্ষায়?
হাসতে পারা একধরণের সৃষ্টি বটে।
নিস্পৃহতাও একধরণের সৃষ্টি বটে।

আপন স্বত্তার সৃষ্টিতে বৃষ্টিতে, 
যখন তখন ভালোবেসে,
যখন তখন হারিয়ে গিয়ে,
এইতো ভালোই আছি বেঁচে।

বিকেল রোদে মন ভিজিয়ে,
ঘাষের মাঝে চুপটি করে,
পাখির ডানায় ভেসে ভেসে;
এইতো ভালোই আছি বেঁচে।


বাঁধবে আমায় কোন বাঁধনে,
স্বাধীন প্রাণের ডানা ভেঙ্গে!
হাসতে পারা একধরণের সৃষ্টি বটে।
নিস্পৃহতাও একধরণের সৃষ্টি বটে।


Wednesday, April 27, 2011

শূণ্যতা

কোথায় যেন একধরনের শূণ্যতা;
তোমাকেই ঘিরে তো চেয়েছিলাম পূর্ণতা।
কতদিন কাঁদিনি মায়ের আঁচলে,
কতদিন দেখিনা বাবার হাসি,
বাঁধতে গিয়ে ঠেলে দিলে কত দূরে;
জমাট বাঁধা অভিমান গুলো তোমাদের বলিনি।


এতো দীর্ঘদিনের সম্পর্কহীনতা
আমাকে ভীত করে সম্পর্কে।
আমার হৃদয়েও ছিল সংগীর কামনা,
একসাথে পথচলা স্বপ্নের সাধনা,
আমার হৃদয়েও ছিল বধূসাজে ফুলশয্যা,
তাই বুঝি ভালোবাসা ঝড়ে ভেজা।


বুকের মাঝে মরুভূমি খাঁ খাঁ,
সমাজ পরিবার স্বপ্ন ছিন্নতা,
আমাকে ভীত করে আজ ভালোবাসা!





Tuesday, April 26, 2011

মুক্তির মন্দিরে

আমাদের রক্তের মাঝে লুকিয়ে আছে
হিংস্রতা এবং ভালবাসার যুগপৎ কীটানু।
আমাদের স্বত্তায় মানব-পাশব আবর্তন।

ভালোবাসার কবিতা মানেই আরেক স্বত্তায় মৃত্যু নয়;
ক্রোধের কাব্য মানেই অসুন্দর নয়।

জীবন মানেই হয়তবা প্রতিদিনের দর্শন।
দুজনে হাত ধরেও হয়ে থাকে দূরত্বে মাতাল;
প্রেরণায় নীরবে বসে থাকে আলোকিত নিউরন।
প্রেমে কামে মৃত্যুর পাতাল,
চুপচাপ ভালবাসা কথা কয়।



Sunday, April 24, 2011

শুধুই ভালবাসি!

জোৎস্নার বৃষ্টিতে আজ আমার গান,
দ্বিধাহীন চিত্তের আনন্দ সাম্পান,
ভুল অন্ধকারের যন্ত্রণা অবসান,
মুক্ত স্বাধীন চঞ্চল প্রাণ।

সহস্রবার বলি, তোমাকে ভালবাসি!


Thursday, April 21, 2011

সীমানা

আমি প্রেমিকার মত ভালোবাসতে পারিনা;
এ আমার ব্যর্থতা!
ভালোবাসা হৃদয়ের আত্মজ অথবা আত্মজা!
শিশুর মত ভালোবাসি,
মায়ের মত ভালোবাসি,
আপন স্বত্তায় স্বপ্নে ভাসি।


আমি তোমাদের মত ভালোবাসতে পারিনা;
দিতে পারিনা হৃদয়ে সীমানা।


ধ্রুবতারার খোঁজে আকাশে চেয়ে থাকি,
হয়ে উঠি আত্মার সাথী।
আমি তোমাদের মত ভালোবাসিনি। 

Monday, April 18, 2011

ভালোবাসা, শুদ্ধতম আত্মার জন্যে!

ভালোবাসা, সেই শুদ্ধতম আত্মার জন্যে;
যে শিশিরবিন্দু দেখব বলে,
অপেক্ষায় থেকেছি আমি সবকটি ঋতু;
প্রথম সূর্যালোকে দেখেছি রংধনু।

ভালোবাসা, বৃষ্টি ভেজা মাটির গন্ধে,
যে ঘ্রাণ আমার বুকের মধ্যে লেগে আছে;
নয়নের নীড়ে শুদ্ধ সৌরভের লাজে,
ভালোবাসা, যে ভালোবাসে।


ভালোবাসা, হৃদয় ঠিকরানো সেই আলোকে।
আমি রক্তাক্ত হই যে আত্মার ক্ষয়ে ক্ষয়ে,
যাপন করি জীবন স্তব্ধ বাতাসে;
দেহের জঞ্জাল ছুড়ে ফেলি আস্তাকুঁড়ে।

শুদ্ধাত্মার দেখা মেলে অবশেষে;
আমারই এক পূণর্জন্মে;
মনের গহীনে স্মৃতির সেই সরল হাসিতে,
অপার্থিব ভালোবাসা লীন হলে সমস্ত স্বত্তাতে।


Saturday, April 16, 2011

ছেলেখেলা

আমার জন্য নয় আড়াল,
আমার জন্য নতুন সকাল।
আমার জন্য প্রাণের জোয়ার;
প্রহর এবার ফুল ছড়াবার।

জীবনটাকে হেসে খেলে,
দিলেম তুলে পাহাড় চূড়ে,
মৃত্যু নেব আপন করে,
সসম্মানে বৈরী ঝড়ে।

কষ্ট দেবে এই আমাকে?
পারবে কেবল ভালোবেসে।


Friday, April 15, 2011

দূর দ্বীপবাসিনী

কখনো যদি তোমাকে দেই আমার বরষার জল;
নেবে তুমি দুহাত পেতে অঞ্জলি ভরে?

তুমি জানোনি, কোন চন্দ্রালোকে দেখেছি তোমায়;
হৃদয়ের কোন কুঠুরীতে দিয়েছি ঠাঁই।
জানোনি তুমি, কোন স্রোতে ভাসিয়েছি সোনার তরী,
আমি তো কেবলি মনের জমিনে ঘরবাঁধা দূর দ্বীপবাসিনী।

বরষার জল ভেসে যাক সমুদ্রের তরঙ্গে তরঙ্গে;
আমার ডাক শোনো শঙ্খচিলের গানে,
দিশারী হয়ে রয়ে যাবো হৃদয়ের কাছে।



Monday, April 11, 2011

জলপাখি

স্নিগ্ধ বিকেল;
পুকুরের জলে পা ডুবিয়ে বসে থাকা;
মনে পড়ে সেই জলফড়িং এর কথা।
আমি তেমনি ভাসি জলে।


জলতরঙ্গে আকাশ দেখি,
আপন মনে ভাসে পল্লবী,
সে জলে ছোটে 
আকাশের ডানা মেলা পাখি;
আমি ডাকি জলপাখি।


আকাশের চঞ্চলতা দেখেছি জলে,
দেখেছি মেঘের আরেক গতি,
শিহরণে অস্থিরমতি পল্লবী;
শুধু কাঁপে নি জলপাখি।
শুভ্র রাজহাসের মত,
জলপাখির এ প্রান্ত থেকে ওপ্রান্তে ছুটাছুটি।





Saturday, April 9, 2011

মুখ, মুখোশ এবং অশরীরী



অন্ধকারে দাঁড়িয়ে থাকা নারিকেল গাছের মতন,
জানালার পাশে দাঁড়িয়ে আছে,
সারিবদ্ধ মুখের মিছিল। 
অশরীরীরা ফিসফিসিয়ে কথা বলে রাতের বাতাসে।
দেখি মুখোশের ছায়াবাজি। 


আমার বুকের ভিতর কাঁপন ধরে
মুখ, মুখোশ আর অশরীরীর স্লোগানে।
বধিরের মত কেবল হৃদপিন্ডের শব্দ শুনি।


রাত্রির অবসানে সূর্যের অপেক্ষায় থাকি।
মুখ, মুখোশ আর অশরীরীর মাঝে,
কষ্টে সৃষ্টে কেবল আমিই বেঁচে থাকি।


Friday, April 8, 2011

ঘর





ছোট্ট একটা ঘর আছে আমার বুকের মধ্যিখানে;
সেইখানেতে এক রাজা থাকে রাণীর হৃদয় চুমে,
রাণী হাসে দুষ্টুমীতে, রাজা হাসে নয়নে নয়নে,
ভালোবাসা বাঁধে বাসা মরমে মরমে।




Thursday, April 7, 2011

মোহ মায়া

মোহ মায়া, হাসো তুমি শুধুই মিছে;
জীবন তোমার ক্ষণিকের নিঃশ্বাসে।
ঘোর ফুরোলেই হারাবে খেলা,
কি হল তবে হেসে হেসে সারাবেলা!

যে মাধুরী হৃদয়ে নেই গাঁথা,
সে ফুলে হয়না পূজা।
যে হাসে মননের আয়নাতে,
সেইখানে সেধেছি তানপুরা।

মোহ মায়া, কি হল তবে হেসে হেসে সারাবেলা!
সেই তো কুড়ালে শেষে বারে বারে তিক্ত নেশা।



Sunday, April 3, 2011

বৃষ্টির ঋণ

বহুদিন আমার ভেজা হয়নি বৃষ্টিতে;
তেমনি করে, যেমন ভিজেছিলাম সেই বর্ষাতে,
স্কুলের সেই শিশু কাকের মত মন ভিজিয়ে;
ছপছপে জলে ভেজা ঘাষেতে ছড়িয়ে।


ভেজা হয়নি বহুদিন...
সোনালী বিকেলের রোদ মেখে। 
শহুরে খাঁচার ফাঁক গলে,
বাড়িয়েছিলেম হাত দুখানি সেই ছোট্টবেলাতে;
বৃষ্টির জল ছোঁব বলে।
কচি সবুজ পাতা আজও আছে হাত বাড়িয়ে।


এইবার বৃষ্টি এলে 
জানালার কাঁচ বেয়ে বর্ষার জল যাবে না নেমে।
ঢুকে যাবে হৃদয়ের গভীরে;
মিশে যাবে আমার রক্তের গোপন স্রোতে।


Monday, March 28, 2011

এবার তোরা মানুষ হ!

বছর ছয়েক আগে পড়েছিলাম, বাণী বসুর লেখা “মৈত্রেয় জাতক”। একবার নয়, একাধিক বার, বারবার পড়েছি। কেন? সেখানে এক ঐতিহাসিক সময়ের উন্মেষ, একটি ধর্মের উন্মেষ, একটি দর্শনের উন্মেষ, কয়েকটি ব্যক্তিত্বের উন্মেষ… শিল্পের উন্মেষ, স্থাপত্যের উন্মেষ আর সবশেষে একটি মানবিক বিপ্লবের উন্মেষ। আর এই সবকিছুর সাথেই সমান্তরালে চলেছে নারীর জীবনের স্বরূপ। আড়াই হাজার বছর আগে, যীশুর জন্মের আগে, মুহাম্মদের জন্মের আগে, বুদ্ধকালীন সময়ের চলচিত্র। নাগরিক জীবনের বাইরের চিত্র… গভীর জঙ্গলে বাস করে একদল মানুষ, কৃষ্ণবর্ণের শরীর, নগ্ন নরনারী। নাগরিকেরা তাদের মানুষ ভাবে না, তারা নিষাদ! বন্য ফল-মূল আর পশুর মাংশ তাদের আহার… রাতের বেলায় দ্রিম দ্রিম বাদ্যের শব্দ, রগগা নামের নিষাদ রমনীর বন্য হরিণীর মত প্রণয়ীর কাছে ছুটে চলা… এইসব মিলে যেন অদ্ভুত এক জগত! পোষাক নামের আচ্ছাদন যেমন তাদের স্পর্শ করেনি, তেমনি তাদের মনও সরল, অনাচ্ছাদিত। বনফুলের সাজের মতই তারা প্রকৃতির বুকের অলংকার!

জঙ্গলের বাইরে আছে নগর, সেখানে আছে যুদ্ধ, চক্রবর্তী রাজা হবার বাসনা, ক্ষত্রিয়ের অস্ত্রের ঝংকার, ব্রাহ্মণের মন্ত্র, শূদ্রের জীবন, শ্রেষ্ঠীর জয়জয়াকার! আর তারই মাঝে বুদ্ধের উদ্ভব… নব ধর্মের দীক্ষা নিয়ে। বৌদ্ধ ধর্ম গৃহীরও, বৌদ্ধ ধর্ম সন্যাসীরও। বুদ্ধ সবার… তিনি দার্শনিক, বোধিপ্রাপ্ত। তাকে দেখলেই ভাবের সৃষ্টি হয়। ঈশ্বর নেই তবে অষ্টমার্গ, পঞ্চমার্গ… এইসব আছে তার অনুসারীদের জন্য। আছে বিহার, আছে ভিক্ষান্নজীবি ভিক্ষুর দল। সাধে কি বলে, উপমহাদেশের মাটিতে আধ্যত্মিকতার বীজ পোতা। এইখানে শিক্ষা নেই, তবে আধ্যাত্মিকতা ঠিকই আছে। আধ্যাত্মিক হবার জন্য এইখানে অক্ষর জ্ঞানেরও প্রয়োজন হয়না।

এইসবের মাঝে কোথায় নারী? অন্তঃপুরে, অন্দর মহলে। বাইরে বেরুতে তাদের অবগুন্ঠন লাগে না হয়তো, তবে বাঁচার অধিকার নেই কোনভাবেই। জন্ম, রূপ, যৌবন, জীবন… সবই পুরুষের জন্য। খাও, ঘুমাও, সন্তানের জন্ম দাও, গৃহপতির সেবা কর … এইটুকুই অস্তিত্ব তার। এর বাইরে যাবার দুটমাত্র পথ খোলা, অতিসুন্দরী, গুনবতী নারী হবে গণভোগ্যা গণিকা আর সংসার ত্যাগী নারী হবে ভিক্ষুনী! যে পিতা পুরুষের লালসার থাবা থেকে কন্যাকে রক্ষা করার উপায় খুঁজে পান না, তিনি কন্যাকে পাঠান বাধ্য সন্যাসব্রতে… সে হয় মহান ভিক্ষুনী। ভিক্ষুনীর জীবন বেঁছে না নিলে হয়ত তার ঠাঁই মিলত গণিকালয়ে। সেখানে রাজ্য তার কোষাগারের অর্থব্যয় করে তাকে গড়ে তুলত গণসেবায়, তাতে রাজ্যের বানিজ্য শক্তিশালী হয় বটে। সে হয়ে উঠত রূপে মোহময়ী, শিল্পে শিল্পিত। সে গানের পাখি, নাচের ছন্দ, আঁকিয়ের রংতুলি, কবির কাব্য সবকিছু। সে স্বাধীন, সে স্বতন্ত্র, রাজপ্রাসাদের অন্তঃপুরের নারীদের চেয়ে তার জীবন অনন্য। সে হাসে গোলাপের মত, সে চৌষট্টি কলায় সুশিক্ষিতা! শিল্প সাধারনের জন্য নয়, শিল্পে অধিকার কেবল তাদের। সাথে আছে কিছু ব্যক্তিত্ব্যহীন রাজগুনগ্রাহী কবির দল। শিল্প সত্যিই এখানে রমনীয়!
আর নয় “মৈত্রেয় জাতক” এর কথা, বইটা থেকে নিলাম কেবল সেইসমাজের ছবিটা। “মৈত্রেয় জাতক” এর কথা আরো লিখতে হলে লিখতাম রাজা বিম্বিসারের কথা, গূঢ় পুরুষ অথবা তক্ষশিলার স্নাতক কূটনীতিবিদ চণকের কথা, বিদুষী নটী জিতসোমার কথা কিংবা বৌদ্ধ ইতিহাসের সুপরিচিত নাম বিশাখার কথা। আমি লিখছি নারীর কথা, শিল্পের কথা, অতীত বাস্তবতার কথা আর শুধাবো বর্তমানের কথা।

কোথায় সভ্যতা? অসভ্য নিষাদদের মাঝেও তো নারীর স্বাধীনতা ছিল, ছিল বনময় চপলা হরিণীর মত ঘুরে বেড়াবার স্বাধীনতা, শিকার করা পশুর মাংস ভক্ষনের উৎসবে নেচে গেয়ে আনন্দে মেতে ওঠার স্বাধীনতা। সেটুকুই কি দিয়েছে আমাদের সভ্যতা? রাজপথে নির্ভয়ে চলার স্বাধীনতা কি আমরা দিয়েছি তাকে? স্বাধীনতা হরণেই কি সভ্যতার মাহাত্ম্য? বুদ্ধ নারীকে সন্যাসব্রতে গ্রহন করে দিয়েছিলেন পালিয়ে বাঁচার অধিকারটুকু। জীবনের অধিকারই যেখানে নেই, অ্যাধাত্মিক মুক্তি সেখানে পালিয়ে বাঁচার পথ ছাড়া আর কিইবা দিতে পারে? নারীর নিজের ঘর নেই, তার হাতে পায়ে সংসারের শিকল বাঁধতে না পারলে একালেও বাবা-মায়ের সম্মানটুকুও তো থাকে না। আজো নারী শ্বাস নেয় অন্তঃপুরে, তার জীবনের শ্রেষ্ঠ অর্জন ভালবাসাও নয়, কেবল সন্তান জন্মদানে। আবেগ বা ভালবাসার মত মানবিক ব্যাপারগুলোকে সমাজ শেখেনি আজও মূল্য দিতে। বহুগামিতার মত ব্যাপারগুলো সামাজিক নৈতিকতার চোখ এড়িয়ে যায় অধিকাংশ ক্ষেত্রেই, কিন্তু অবগুন্ঠিত স্ত্রীর বাধ্যসেবার দাবীতে ছাড় দিতে কেউই রাজি না। শিশুকাল থেকেই কন্যাকেও গড়ে তোলা হয়, নারী মানেই পতিভক্ত, সুকন্যা, সুগৃহিণী, সুমাতা। কিন্তু যে পাত্রে কন্যাদান করে নিশ্চিন্ত হতে চান বাবা-মা, তাকে জীবনসংগী হিসেবে গ্রহণ করতে সে চায় কিনা, সে প্রশ্ন করতে ভুলে যেতেও আপত্তি নেই আমাদের সভ্যসমাজের। ব্যাপারটা শুধু একতরফাভাবে মেয়েদের ক্ষেত্রেই সত্যি না, সত্যি অনেক ছেলের ক্ষেত্রেও… বিয়ের মত ব্যাপারটা গুরুজনের পছন্দে করলেই হবে, জীবন যাদের তাদের কিসের এতো মাথা ব্যথা? গুরুজনেরা যা করেন তা তো ভালোর জন্যই করেন, তাই না? বিয়ে তো বিয়েই, পাত্র-পাত্রী তপেশ-মিলি না মহেশ-মিলি, ব্যাপার না সেটা। সন্তানের জন্য সংগী বাছাই করে দেবার গুরু দ্বায়িত্ব গুরুজনেরা নিয়েই খুশি, এর সাথে জড়িত অজস্র পারিবারিক-সামাজিক অস্থিরতার খবর রাখার দ্বায়িত্ব তাদের না। বিয়েটা ইচ্ছাই হচ্ছে না অনিচ্ছাই, কন্যা কিশোরী না বালিকা এইসব কোন ব্যাপারই না। প্রশ্ন শেষপর্যন্ত একটাই, এইভাবে বেধে দেয়া যুগলেরা কজন হয়ে ওঠে সুখ-দুঃখ-আনন্দ-ভালোবাসার সংগী নাকি কেবলই যৌনসংগী? যে কিশোরী বুঝতেই পারেনি, তাকে বিয়ে দিয়ে দেয়া হয়েছে, ১২ হাত লম্বা লাল টুকটুকে শাড়িটা গায়ে জড়িয়ে স্কুলের বই ছেড়ে, কানামাছি ছেড়ে এখন তাকে সংসারে পা রাখতে হবে, তাকে হতে হবে আরেকটা জীবনের সংগী, এই অবিশ্বাস্য বাস্তবতায় মানবতা কতখানি? মানুষ কি এইভাবে হাজার হাজার বছর ধরে ভালবাসা-মায়া মমতার বদলে করে যাবে কেবল সামাজিক প্রথা আর যৌনতার পূজা?
আমরা এখন বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থাপত্যকলা শিখি, নাট্যতত্ত্ব পড়ি, কিন্তু নারীকে আজো নাচানো হয়। গণিকালয়ের বন্দীশালা থেকে শিল্প মুক্তি পেলেও নারী মুক্তি পায়নি পুরুষের লালসার বৃত্ত থেকে। রাস্তার পাশের বিলবোর্ড থেকে ঘর পর্যন্ত, নারী সর্বত্রই রমনীয়। নাচের মঞ্চে নারীকেই চাই, নারী তো অপ্সরী! নৃত্য শিল্প কিনা এ বিচার পরে, নারী যে রূপসী, তাতে সন্দেহের অবকাশ নেই। বিজ্ঞাপনে নারীকেই চাই, নারী যে পণ্যের উপমা। অবগুন্ঠনের আড়ালেও নারীর রূপ যৌবনেরই খেলা। যে নারী আজ পিতৃগৃহে, পতিগৃহে বা ঘরের বাইরে নাচতে রাজি না হবে, তার জন্য আজ ভিক্ষুণীর জীবনের পথটুকুও খোলা নেই। যে খাদ্যে স্বাদ আছে, তা না চেখে নষ্ট করা যায়? তাই কি হয় নাকি? মেয়েমানুষ বলে কথা! এই মেয়েমানুষেরাই বা কতটুকু চায় মানুষ হতে? জীবন যে আরো অনেক অনেক সম্ভাবনার পথ, সে কি কোনদিন তাকে জানতে দেয়া হয়? আমাদের ইতিহাসে বেগম রোকেয়া আছে, তিনি কি এখন নারী সংগ্রামের অর্জন নাকি পুরুষ শাষিত সমাজের অমানবিকতার অভিযোগ-মুক্তিতে ব্যবহৃত যুক্তির হাতিয়ার?

আড়াই হাজার বছর কেন, তারও আগেও পুরুষমানুষ পুরুষমানুষই ছিল, মেয়েমানুষ মেয়েমানুষই ছিল, মানব সমাজ আসলে এমনই শ্বাপদের জঙ্গল। মেয়েমানুষ বলে যারা আজ তাচ্ছিল্যের পাত্র, বৈষম্যের শিকার, তারা কতটা ঘৃণাভরে পুরুষের দিকে আঙ্গুল তুলছে, সে পুরুষেরা বুঝলে এটাও বুঝতো, “নারী” ও “পুরুষ”, মানব প্রজাতির দুইটি ভিন্ন লিংগ নির্দেশক শব্দ নয়, মানব মর্যাদাচ্যুত দুইটি তুচ্ছার্থে ব্যবহৃত শব্দ! এইসব তুচ্ছার্থে ব্যবহৃত লিঙ্গবাচক শব্দের অবমাননা থেকে মানবতা মুক্তি পাবে কবে?

প্রকাশঃ মুক্তমনা, ২৩ জানুয়ারি, ২০১১ 


Sunday, March 27, 2011

কেউ জানেনি

আমি কষ্ট দিতে জানি;
অনেকের চেয়ে বেশী তীব্র স্বরে;
স্বরের সে তীব্রতার পিছনে,
এক সুদীর্ঘ ইতিহাস আছে,
কেউ তা জানেনি।


সবাই নির্দ্বিধায় বলে আমি ক্ষ্যাপাটে জেদী,
অনেকের মাঝে এক আগুনে পাখি;
আমি কেবল উচ্চারণ করতে জানি, ভালোবাসি।


কেউ জানেনি, আমার সব অহংকারের মাঝে তুমি।


Saturday, March 26, 2011

ফিনিক্স পাখির রহস্য!

আমার জীবনের একটা অতিলৌকিক গল্প এতোদিন লোকচক্ষুর আড়ালে ছিল। আমার উজ্জ্বল কৈশোরে, সে বেলায় আমার বোঝার সাধ্য ছিল না, কি ঘটেছিল আসলে। আমি আজ তাই লিখতে বসলাম, গল্প লিখতে নয়, ক্ষুদ্র আত্মকথা নয়, কেবল রহস্যময় একটা ঘটনাকে লিপিবদ্ধ করে রাখতে। 

আমার শৈশব কৈশোর ছিল অসাধারণ সুন্দর। বাবা মায়ের প্রথম সন্তান, তাই স্নেহে মমতায় ভালোবাসায় কোন কমতি ছিল না। একটুকরো স্বপ্নের মত সাজিয়ে বড় করেছিল আমাকে। কিন্তু যেকারণেই হোক আমার মানসিকতা অন্য দশটা বাচ্চার মত বাড়েনি। আমার শৈশবে কেটেছে লজ্জাবতীর পাতা ছূঁয়ে, ঘাষফুল কুড়িয়ে এবং পৃথিবীর মানুষগুলোকে কিছুটা পাশ কাটিয়ে। আমি স্কুলের বইয়ের অক্ষরগুলো আগে ভাগেই শিখেছি, পাতাঝরার দৃশ্য বা কচি পাতা গাছে আসার মুহূর্ত গুলো মনের ভেতরে গেঁথে নিতে খুব জলদি শিখেছি... কিন্তু আমার চারপাশের মানুষগুলোকে চিনিনি। এক্কেবারে সাদাখাতার মত শৈশব আমার যেখানে পেন্সিলের একটা আঁচড়ও নেই, আলোর মত দিন আমার, যেখানে আঁধারের লেশমাত্র নেই। সেই সাদাখাতার দিনলিপিতে একবার একটা স্বপ্ন জন্ম নিল, বড় কোন স্বপ্ন না, ক্যাডেট কলেজে পড়ার স্বপ্ন। স্কুলের পড়া ভালো লাগে না, তারচেয়ে কঠিন অঙ্ক করতে ভালো লাগে, সাধারণ জ্ঞানের বই পড়তে ভাল লাগে তা নয়, তবে কে বেশী পারে, জিকোর সাথে সেই প্রতিদ্বন্দীতায় নামতে ভালো লাগে। অবশেষে পরীক্ষা দিলেম ভর্তির জন্য, লিখিত মৌখিক, স্বাস্থ্যপরীক্ষা সব কিছু দিয়ে আমি প্রায় নিশ্চিন্ত ছিলাম, আর কদিন পরেই আমি ক্যাডেট কলেজে পড়তে চলে যাচ্ছি। সেইসময় জানলাম, ক্যাডেট কলেজের মত মামুলি একটা স্কুলের ভর্তি পরীক্ষাতেও যোগ্য হলেই হয় না, সহপ্রার্থীদের অনৈতিক বাবা মায়ের সাথেও লড়তে হয়। এবং আমি তাদের সামনে দাঁড়াতে পারিনি। আমি তো ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়েছিলাম, বাবাকে দিয়ে ভর্তির সুপারিশের নয়। আমার ১২ বছরের মনটার উপর দিয়ে ঝড় বয়ে গিয়েছিল সেদিন। মানুষটা আমি ছোট্ট ছিলেম, স্বপ্নটাও ছোট্টই ছিল... কিন্তু ছোট্ট মনে স্বপ্নভঙ্গের আঘাত মোটেও ছোট ছিল না। কান্না সামলাতে পারতাম না। পৃথিবীটা যে আমার নিজস্ব জগতের মত সুন্দর নয়, সেই আমি প্রথম জেনেছি। কিন্তু অসুন্দর পৃথিবীকে মন থেকে গ্রহণ করতে পারিনি।  সেই বিষাদ লাগা দিনে, একরাতে স্বপ্ন দেখলাম, কোন এক দৈব কন্ঠস্বরের, কে যেনো মোহময় কন্ঠে আমায় বলে গিয়েছিল, কেবল চারটি লাইন। আমার ঘুম ভাঙ্গে সেই চারটি লাইন মাথায় নিয়ে, মাকে বলি, বাবাকে বলি... তারাও অবাক হয়, এইটুকুনি মেয়ের স্বপ্নে এসব কথা এলো কি করে, তাদের চোখে বিস্ময়, মনে সন্দেহ, তাদের ঈশ্বর আমাকে জীবনের নির্দেশনা দিতে শুরু করেছে কিনা। আমার বাবা মায়ের ঈশ্বর তখন আমারো ঈশ্বর, কিন্তু তবুও ঐ বয়সে আমার বোঝার সাধ্য ছিল না, ঈশ্বরের নির্দেশনা মানে কি। আমি নিজেকে নিয়ে কিছুটা রহস্যের মাঝেই চলে গিয়েছিলাম, নির্দেশনা হোক আর যাই হোক, কথাগুলো যেনো ভুলে না যাই, তাই আমি আমার স্কুলের সবকটা খাতার প্রথম পাতায় লিখে রেখেছিলাম...

দেহ পবিত্র,
মন পবিত্র, 
আত্মা পবিত্র, 
চারপাশ পবিত্র।

আমার আত্মা স্বত্তার গড়নে এই বাক্য চারটে সবসয়ম আমাকে বলেছে, আমায় কি করতে হবে, আর কি করতে হবে না। আমার স্বত্তার ভিত্তিভূমি যেন এই বাক্যগুলো। আমি আজ অব্দি এই মন্ত্র মনে রেখেছি। আজ অব্দি আমার জীবন কখনো এই মন্ত্রকে ছেড়ে যায় নি। 

যতকাল আমার ঈশ্বর ছিল, ততকাল, সাড়ে ১২ বছর বয়সে এই মন্ত্র পাওয়া আমার জন্য একটা বিস্ময় ছিল, আমার বাবা মায়ের মত আমারও সন্দেহ ছিল, এ কি ঈশ্বরের নির্দেশনা! আজ আমার ঈশ্বর নেই, আমি আজ জানি, ঐ কন্ঠস্বর ছিল আমারই অন্তর্গত কন্ঠস্বর। ঈশ্বরকে আমি ছেড়ে গেছি, ঈশ্বরও আমাকে ছেড়ে গেছে, কিন্তু আমার অন্তর্গত কন্ঠস্বর আমারই রয়ে গেছে। আমি এখনও মাঝে মাঝে মন্ত্রের মত উচ্চারণ করি, 

"দেহ পবিত্র, মন পবিত্র, আত্মা পবিত্র, চারপাশ পবিত্র।"



Friday, March 25, 2011

আমি অপেক্ষায় আছি অরণ্যানী

অরণ্যানী, আমি অপেক্ষায় আছি,
তোমার সাথে দেখা হবে;
ইট পাথুরে মানুষগুলো ছেড়ে,
সমস্ত চেতনায় সবুজের আলিঙ্গনে,
কিছু শিশিরের অধর চুমে,
অজানার ভয়ে ভয়ে...
অথবা বাঘের সাথে পরিচয়ের শিহরণে।


আমি অপেক্ষায় আছি অরণ্যানী,
তোমার সাথে দেখা হবে।
ধূলি ভরা হলুদ পাতার জীবন ছেড়ে,
সজীব প্রানের গহীনে।


যদি বল তুমি আসবে, 
আমি লেগে যাবো 
অশ্লীল সভ্যতার ধবংসে।
তোমার দেহের ফাঁকে ফাঁকে,
পাখির বাসায় সুখের ঘুমে আমৃত্যু হারাতে।



Thursday, March 24, 2011

দেবতা

মনের অন্তর্লীনে ঝড় অন্ধকার কালো;
ঘুরে দাড়াবার সময় থাকতে থাকতে 
তাই ঘুরে দাড়ানোই ভালো।
অকারণে বয়ে যাওয়া কিছু কষ্ট;
ফেলে দিয়ে হাসতে না পারো, ভালবাসতে তো পারো।


যে মুঠোয় শিকল ভাঙ্গার সাহস,
অলংকারের মত সুতীব্র প্রতিরোধ,
সে হাত বাঁধবার সব আয়োজন বৃথা।


তোমাদের স্বত্তা অথবা স্রষ্টা দিয়েছে অহংকারের বাসনা।
হারিয়েছ তাই হৃদয়বৃত্তির তপসা।
আমি দেব কেবল গভীরতা;
মনের মন্দিরে দেব মানবতা।


আমি কেঁদেছি তোমার নীরবতায়,
হেসেছি তোমার সরলতায়,
ভালবাসি তোমারই ভালবাসায়,
সেই তো আমার হৃদয়দেবতা।
অসীমের মত মুক্ত স্বত্তা, 
মনের তন্ত্রীতে সুরে সুরে বাঁধা।



Tuesday, March 22, 2011

সামাজিক সময়ের বদান্যতা

নির্জনতা,
অস্থির দিশেহারা পাখিরা,
কিংবা বিসর্জনের যন্ত্রণা,
এই সব সামাজিক সময়ের বদান্যতা।

বসন্তখেলার কচি পাতায়
তোমার মুখের মুখরতা,
আমার শাড়ির আঁচল জুড়ে
তোমার হাতের অতীত ছোঁয়া।
তারপর সব ভুলে যাওয়া,
অথবা ভুলে থাকা।

বারে বারে
হয়ত হবে কণ্ঠ শোনা,
হয়ত হবে চোখের দেখা,
মনে মনে বিষাদ নেশা,
কেবল তোমার জন্য হাসব না।





১২ই ফেব্রুয়ারি ২০১১

স্বরলিপি

পায়রার ডানায় গল্প লিখি।

গল্পের মাঝে মাঝে...
কয়েকটা বাক্য ফাঁকা রাখি।
ঐখানে কোন কথা নেই, 
আছে কিছু নীরব অনুভূতি।
যেদিন আমার গল্প নিয়ে,
পায়রা যাবে তোমার কাছে,
সেদিন আর আমার গল্প লেখা হবে না ।

সেদিন লিখব গানের স্বরলিপি।

Monday, March 21, 2011

যদি সইতে পারো জলন্ত অগ্নিকে

আমি নির্জনতা ভালবাসি, তবে অন্ধকারকে নয়।
অন্ধকারের জন্য খুলেছি আমার বিরুদ্ধ দুয়ার,
তাকে আমার ছায়া মাড়ালেও সরে দাঁড়াতে হয়;
দেখি অপসৃয়মান আঁধার।


এসো প্রখর সূর্যালোকে,
আমার সাথে কথা কইতে,
অথবা আমার সাথে লড়তে।


আমার আকাশ ভরা আলো;
রাত্তিরেও থাকে নক্ষত্র,
যা বলবার আলোয় দাঁড়িয়ে বলো।


কথা বল আমার চোখে চোখ রেখে;
যদি তোমার ছায়া না কাঁপে,
যদি সইতে পারো জলন্ত অগ্নিকে।


Sunday, March 20, 2011

অভিমানের আমন্ত্রণ


তোমার বুকেই লিখেছি আমার বুকের সব কবিতা;
আমার চোখেই দেখো তোমার দুঃসাহসের ছবিটা।




Saturday, March 19, 2011

ঈশ্বরের অভিমান

মাঝে মাঝে আধ একটা ঈশ্বর আমদানীর প্রয়োজন বোধ করি।
যার দিক থেকে আমি চাইলেও অবিশ্বাসে মুখ ঘুরিয়ে নিতে পারবো না।
তোমাদের ঈশ্বরের চোখে আমি বড় নিষ্ঠুর;
অবজ্ঞায় ছুড়ে ফেলেছি বলে।


একটা অপিরিসীম বাংলাদেশ,
জীবন নামের একটা মিশন,
অথবা মানবতার জয়স্নান,
এসব কখনো আমাকে নিঃসঙ্গ হতে দেয়না।
তবু মাঝে মাঝে প্রার্থণা সংগীতের বড় প্রয়োজন বোধ করি।


জীববৈজ্ঞানিক ব্যবচ্ছেদের মত ঈশ্বরতত্ত্বের ব্যবচ্ছেদে
তোমাদের ঈশ্বর আমার উপর অভিমান করেছেন।
আমার তাচ্ছিল্যের হাসিতে তার অভিমান হয়েছে বটে,
তবে ঈশ্বরের সেবকেরা ক্লান্ত হয়নি তাতে।


এখন আমার প্রার্থণার বেলা,
পারলে কেউ আমার পূজার বেদীতে একটা ঈশ্বর রেখে যাও।

অসমীকরণ

আমাকে নিয়ে অযথায় চিন্তিত তুমি;
আগের মত করে আদুরে গলায় বলব না,
এতো চিন্তা কর কেন বলত?
আজ বলব, চিন্তা করোনা, ভয় পেয়না,
যখন অসমাধানের সমীকরণটাই বুঝে গেছি,
তখন আর নতুন সমীকরণ খুঁজে কি লাভ বল?

এইমাত্র ঘুমের ঘোরে আবার বিভীষিকা এসেছিল,
আমাকে ক্ষতবিক্ষত করে দিতে,
কুমীরের মত চেহারা নিয়ে,
ভাঙ্গা ঘুমে বুঝলেম, মাথায় ভীষন যন্ত্রণা।
কি লাভ বল, আমাকে নিয়ে শুধু শুধু ভেবে।

অথচ ঘুমুতে গিয়েছিলাম, দুচোখ ভরা স্বপ্ন নিয়ে,
বর্ষার চুলে হাত বুলাতে বুলাতে।
ঘুমুতে গিয়েছিলাম দুষ্টুমীর হাসি হাসতে হাসতে।
জেগেছি আবার, স্বপ্ন-দুঃস্বপ্নের সেইসব মরচে ধরা অসমীকরণে।


পৃথিবী তোমার জন্যে...

একটা ঝকঝকে নীল আকাশ তলে আমার বসবাস।
পায়ের নীচে শুধুই আমার কচি সবুজ ঘাষ।
বুকের মধ্যে লেগে আছে তোমার হাসির রোদ,
তাতে হলই নাহয় বন্দীশালার একটুখানি ক্রোধ।


আমি তোমায় দেখি ভালোবাসার স্নিগ্ধ চোখে;
পৃথিবী ভরেছি কেবল আমার সরলতম আবেশে;
আমি চেয়েছি কেবল সত্যের স্বাধীনতা;
তাই বাধাও আমায় দিল না বাধা।


একটি মানবজন্মে,
একটি ধরণীর জন্যে,
রইল কেবল একটিই সাধনা;
বিশুদ্ধতার সাহসী দৃপ্ততা।

বিপ্লব


তোমাদের সভ্যতা আমি ঝোলায় পুরে বিকিয়ে দিয়েছি।
ভালবাসার দামে, স্বাধীনতার নামে।


Monday, March 14, 2011

অবিশ্বাসের ঘরবসতি

আবুল হাসানের প্রেমে পড়া দোষের কিছু নয়।
তার সাথে আমার বিশ্বাসের কোন লেনদেন নেই।
আবুল হাসানের প্রেমে পড়া দোষের কিছু নয়।

আমার নির্জন মনে আবুল হাসানের কবিতার
আগ্রাসী হাত দেখেও আমি চমকে উঠিনা।
তবে অবিশ্বস্ত প্রণয়প্রার্থীর মুখখানি মনে হলেও আতঙ্কিত হয়ে উঠি।
আলোকিত মধ্যদুপুরেও সে মনে হয় অন্ধকারের আগ্রাসন।

কবিতা সমগ্রের পাতা উল্টাতে উল্টাতে আমার নির্জন স্বাক্ষরটুকু ছাড়া
আর প্রণয়ীর জন্য বলতে ইচ্ছা করে, "এখন প্রেমিক নেই, যারা আছে তারা সব পশুর আকৃতি"।

আবুল হাসানের প্রেমে পড়া দোষের কিছু নয়।
তার সাথে আমার বিশ্বাসের কোন লেনদেন নেই।
সেই তো, দিনরাত আমায় বলে যাচ্ছে,
"ঝিনুক নীরবে সহো
ঝিনুক নীরবে সহো, ঝিনুক নীরবে সহে যাও
ভিতরে বিষের বালি, মুখ বুঁজে মুক্তা ফলাও!"

Sunday, March 13, 2011

যুদ্ধ ও শান্তি

শান্তি চেয়েছি...
বিড়ালের মত গুটিশুটি মেরে 
নিরাপদে ঘুমোবার জন্য নয়,
যুদ্ধটা লড়ে যাবার জন্যে।


শান্তি চেয়েছি...
যুদ্ধ জয়ের জন্য নয়,
যুদ্ধটা লড়ে যাবার জন্যে।


শান্তি চেয়েছি...
তলস্তয়ের মত যুদ্ধক্লান্তির ক্ষয়ে ক্ষয়ে,
 নয় শান্তির শেষ মদে,
একটি স্বপ্নকে বাঁচাবো বলে।


শান্তি চেয়েছি...
আত্মার স্থিরতায়,
জীবন্ত চঞ্চলতায়,
সহাস্যে।

Friday, March 11, 2011

গুচ্ছ গুচ্ছ কবিতা

এক এক গুচ্ছ কবিতা লিখেছি মনে,
গুচ্ছ গুচ্ছ কবিতা।
নিজেকে মনে হয় সেই আঙ্গুরলতা;
ধারণ করেছি টক মিষ্টি কাব্যসুধা।

মাঝে মাঝে নিজেকেই মনে হয় আপাদমস্তক কবিতা।

সূর্যের রঙ কি লাল?
কত লাল?
লাজরাঙ্গা কুমারীর মত?
নাকি সূর্যের বুকে আমার বুকের রক্ত ঢেলেছি?
তাই বুঝি আমার কবিতা গুলো টকটকে লাল।
আর একটুখানি টক-মিষ্টি-ঝাল।

Friday, March 4, 2011

জীবন বাজি

জীবনবাজি...
মানবিক সত্যের জন্য।
ধর্মের ধূলিস্যাতে,
বিভেদের টুটি চেঁপে।


যে ভালবাসার কথা বলি আমি শতকণ্ঠে,
লড়াইটা তার জন্যে।
অন্ধকারের মাঝে আলোর উদ্ভাসে।

চিৎকার করে বলি তোমার নামে

আমার জানালার বাইরে ছোট্ট একটা পৃথিবী আছে,
আমি তা ঘুরেও দেখিনা।
আমার জানালা বন্ধ সেই কবে থেকে...


আমার চোখ ঘন কৃষ্ণ, দৃষ্টি ধূসর।
বাগানবিলাসের বাহারী রঙ দেখিনা অনেকদিন।


আমি নিথর,
শব্দ আমাকে বিচলিত করে না।


জীবন আমাকে প্রণাম করে,
ভয় পায় চলে যেতে।
মৃত্যুর যত ভয় আমার স্বপ্নের অভিশাপে।


আমি অমর।
কেবল একবার ভালবেসে।

Thursday, March 3, 2011

প্রজ্ঞা

বাবা, ঐটা কি?
-মন্দির
মন্দিরে কি হয়?
-ঐখানে ঠাকুর আছে, লোকে ঠাকুরকে পূজো দেয়।
পূজো কি বাবা?
বাবা চিন্তায় পড়ে যায়, এইটুকু মেয়েকে কি করে বোঝাবে, পূজো কি!

সেদিন অহনা বোঝেনি, পূজো কি। মা পরে শিখিয়েছে, ঠাকুর কি, কিভাবে পূজো দিতে হয়। মায়ের সাথে আয়োজনে কত্ত বসেছে সে। মা তো খুশি, ঠাকুর খুশি হোক না হোক!

অনেক বেলা গড়াল। অহনা কাউকে শুধায় না, পূজো কি? একদিন ঠাকুরকেই শুধিয়েছিল, তোমাকে কেন পূজো করব? ঠাকুর চুপ!

 মন্দির তার হৃদয়ে, সেখানে চিরকাল তার মাথা উঁচুই থাকবে।

বহিরাগত

সারভাইভাল অফ দ্য ফিটেস্ট! এই নিদারুন সত্যটা মনে হলেই একটা হতাশাজনক অনুভূতির মুখোমুখি পড়ে যায় অরনী। একটা ভয়ঙ্কর তিতকূটে স্বাদে ভরে যায় সমস্ত মন। ছাব্বিশটা বছরেও একবারও অরনীর মনে হয়নি, সে এই পৃথিবীতে বেঁচে থাকার যোগ্য। মনে মনে খুব বেশী হিংসে হয় রাসেলকে। সেই ছোট্টবেলায় বন্ধুটা তাকে ফেলে চলে গেলো পরপারে, তার ছোট্টমনে একটা ধাক্কা দিয়ে। সেদিন রাসেল সাঁকো থেকে পড়ে গিয়ে পরপারের টিকেটটা হাতে নিয়ে চলে না গিয়ে অরনীকেও তো দিয়ে যেতে পারতো সেটা। রাসেল বেঁচে থাকলে কি সে অরনীর মত বেঁচে থাকার অযোগ্য হত? মনে হয় না। সেই থেকেই কি বিষন্ন অরনী? কি করে জানবে সে অথবা আমরা। সাড়ে চার বছরের শিশুর মনে খেলার সাথীর মৃত্যু কতটা বিষন্নতার জন্ম দিতে পারে, তার তো কোন লেখাজোখা নেই। অরনীতো সেই বয়সেই এক বিষন্ন শিশুর রূপ নিয়ে আনমনে পথ চলতে শুরু করেছে... অনেকটা জন্মাবার কালেই মরে যাবার মত করে। এটা কি যথেষ্ট অবাক হবার মতই ব্যাপার না, সেই ছেলেবেলাতেই অরনীর আর কোন বন্ধু ছিল বলে তার মনে পড়ে না! কি করে কেঁটেছিল শৈশব?

ঝাপসা ঝাপসা মনে পড়ে ভাস্করের কথা। ক্লাসের ফার্স্ট বয় ছিল। স্কুলের নিয়ম ছিল পাশাপাশি চেয়ারে দুটো ছেলে বা দুটো মেয়ে বসতে পারবে না। তাহলে ক্লাসে বেশী হৈচৈ হয়। টিচার সামলাতে পারে না। যার যেখানে বসার জায়গা নির্দিষ্ট করে দেয়া হবে, তাকে সেখানেই বসতে হবে, অন্য কোথাও না। অরনীর মত চুপচাপ শান্তশিষ্ট মেয়েটাকে বসতে হত ভাস্করের পাশে। ফার্স্টবয়কে বিরক্ত করতেও ভয় লাগতো অরনীর। পাশাপাশি বসেও কখনো তেমন কথা বলেনি অরনী ভাস্করের সাথে। বলত না ভাস্করও। কেবল মনে আছে, ভাস্করের হাতে ওর তুলোনায় বড় একটা ক্যাসিওর ডিজিটাল ঘড়ি ছিল, আর টিচার ক্লাসওয়ার্ক করতে দিলে সবার আগে ভাস্কর লেখা শেষ করে চুপচাপ বসে থাকতো। অরনীর তাতেও অস্বস্তি লাগতো। ইস, ভাস্করের লেখা শেষ, আর আমি লিখতেই পারছি না।

পরের টার্মেই কার সাথে যে অরনীর নতুন বসার জায়গা ঠিক করে দেয়া হল। ছেলেটা নাম মনে নেই তার। মনে আছে ওর বাড়ি ছিলো বরিশাল। খুব মজা করে কথা বলত ছেলেটা। আর ওর আবেশে আবেশে চুপচাপ অরনীও কেমন যেন হয়ে উঠল কথাপোকা! ক্লাসে কারা এতো কথা বলে? আবার অরনীকে উঠিয়ে এনে বসিয়ে দিল ভাস্করের পাশে। একেতো অরনীর টিফিনবেলা কাঁটে ঘাসফুলের সাথে কথা বলে, তারউপর আবার টিচারটা কি বুদ্ধি করে বন্ধ করে দিল কথা। সাথে আছে একটা খ্যাতি, লক্ষী মেয়ে অরনী! একটুও দুষ্টুমী করেনা।

দুষ্টু কৌশিকের সাথে বন্ধুত্বটা হয়ত হয়েই যেতো, অরনীর বাবার বদলিটা না হয়ে গেলে। কৌশিক খুব মজা পেতো অরনীর অন্যমনস্কতায়। হয়ত কৌশিক অনেকক্ষন ধরে অন্যদের দেখিয়ে দেখিয়ে অরনীর পাশে পাশে হাঁটছে, অরনী টেরই পায়নি। কিংবা কখন অরনীর খাতা নিয়ে গেছে, অরনী জানেও না। নয় বছরের মেয়ের এতো কি নীরবতা। সহপাঠিরা তাই নিয়ে হাসবে না তো কি? এখনো তার মনে পড়ে কাশ্মীরের অরনীর উদাসী মুহূর্তের ধ্যান ভাঙ্গিয়ে হেসে গড়াগড়ি খাওয়ার কথা!

এরপর যখন অরনীকে কো-এডুকেশন থেকে গার্লি গার্লি পরিবেশে এনে ফেলা হল, সেই সময় থেকে অরনী আর স্কুলের কথা মনেই করতে চায় না। আগে সে কারোর সাথে তেমন কথা না বললেও, চারপাশে কেবল গার্লি গার্লি টক ঝালে এমন দম বন্ধ হয়ে আসতো না। নিঃশ্বাস নেবার মত কিছু অক্সিজেন ছিল তার, এখন পুরোটাই ভরে গেছে কার্বন ডাই অক্সাইডে। আর বাঁচেনি অরনীর শৈশব কৈশোর কিছুই! তখন থেকেই অযোগ্যতার আত্মগ্লানিতে ভরে গেছে জীবন। শৈশব কৈশোরের অপমৃত্যুই হয়ত অরনীকে মুক্তি দেয় নি শৈশব থেকে। তাই ছাব্বিশ বছরের শিশুটা আজ বিশ্ববিদ্যালয় পেরিয়েও বড় বড় মানুষগুলোর মাঝে দম বন্ধ করে থাকে। তার ইচ্ছা করে মধ্যরাতের ঢাকা শহরটাকে পায়ে হেঁটে চষে ফেলতে। ইচ্ছা করে ঘন অরণ্যে পাখির ডাকে মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে অনন্তকাল বসে থাকতে। ইচ্ছে করে গোধূলী বেলার রংটাকে হাতের অঞ্জলিতে বন্দী করে রাখতে। ভুলে যেতে ইচ্ছে করে, তার ঘরে ফেরার নোটিশ ঝুলছে, সেলফোনটাকে ছুড়ে ফেলে দিলেও জবাবদিহি করতে হবে।

অরনীর একটা বর্ষা দরকার, যে বর্ষায় কচি পাতার মত স্নান করে সে সূর্যের দিকে চেয়ে শিশুর মত হাসতে পারবে। বেঁচে থাকার যোগ্য না হতে পারলে অন্তত হাসতে হাসতে বিলীন হয়ে যেতে পারবে!

Monday, February 28, 2011

সৃষ্টির স্বপ্নে বাঁচি

চল্লিশ কেজির খানিক বেশী এই শরীরটার ওজন। মাথাটা মনে হয় সেই তুলনায় একটু বেশীই ভারী। মাঝে মাঝেই মনে হয়, মাথাটা না থাকলে একটু সাচ্ছন্দ্যে চলতে পারতাম। এই মাথাটাতেই কিনা আমার ইচ্ছা করে সারা দুনিয়ার সব কিছু ঢুকিয়ে রাখি। নাহ ঠিক বললাম না, সব কিছু না, কেবল তাই যা আমি শিখতে চাই, জানতে চাই আর আমার জীবনের সুন্দর মুহুর্তগুলো। নতুন কিছু করার যে কি আনন্দ, তা আমি জানি। খুব সাধারন একটা ধারণাকে যখন নিজের মত করে আবিষ্কার করে ফেলি, মনে হয়, এইতো চেয়েছিলাম। রবীন্দ্রনাথ পারে না আমায় এমন ভাবে হাসাতে। তবে শান্তিনিকেতন বড় টানে। ল্যাবে আমার পাশে বসে থাকে জামান। আমার চেয়ে বছর দুয়েকের ছোট। কোকড়া চুল, হাসে খুব মিষ্টি করে। জামানকে যখন দেখি এক দৃষ্টিতে ব্রেডবোর্ডের দিকে তাকিয়ে আছে, কোথায় যেন ঝালেমা পাকাচ্ছে সার্কিটটা, তখন আমি মনে মনে খুশি হয়ে যাই। জানি, ঝালেমার মুন্ডুপাত করে ফেললেই জামানের মুখ উদ্ভাসিত হয়ে উঠবে মায়াবী হাসিতে। এই নভেম্বরেও রোজকার টিশার্টের জায়গায় শার্ট পড়তে হলে জামানের বিরক্ত লাগে। বাহুল্য ছাড়া আর কি! ওদের একটা মজার ব্যাপার আছে, যাতে আমি কোনদিন যোগ দেইনি। কাজ করতে করতে হঠাৎ হঠাৎ উঠে যায় ওরা। কিছুক্ষনের জন্য সিগারেটে আত্মসম্পর্পন করে আবার জীবন জলাঞ্জলি দেয় সার্কিটের ঘোর প্যাচে। কি সাধারন একটা জীবন অথচ কি সুন্দর। ভারী মায়া জমে গেছে আমার জামানের সরলতায়।

আমার এখনো সার্কিটে মন বসাতে হয়নি। হবে হয়ত একদিন। আমার মাথার মধ্যে খালি ঘোরে স্টিলের তারের নির্ঝঞ্ঝাট চলাচল। অ্যানসিস নামের বিদ্ঘুটে সফটওয়্যারটা জীবনে প্রথমবারের মত হাতে নিয়ে বড় কষ্ট লাগছে। এই সফটওয়্যার যারা বানায়, তারা কি জিনিসরে বাবা! আমার তো ব্যবহার করতেই জান খারাপ হয়ে যাবে। রাতঘুমে স্বপ্ন দেখা কেমন কেমন জানি! কিন্তু জেগে জেগে স্বপ্ন দেখার কি যে ভয়ানক চাপ, সে আমাকে চারপাশের বাস্তবতাকে ভুলিয়ে দেয়। কিন্তু ছাড়তে পারিনা কিছিতেই। বাঁচবোই না ছাড়লে! নিজে না বাঁচি, স্বপ্নকে বাঁচাতে হবে। বাঁচাতে হবে জামানের মুখের মায়াবী হাসিকে। বাঁচাতে হবে ওর মত গবেষনায় বুঁদ হয়ে নিশঃব্দে যারা একটা একটা করে সিঁড়ি গেঁথে আকাশ ছোঁবে, তাদের স্পৃহাকে।

মার্কিনীরা যদি পারে জন হপকিন্সের মত বিশ্ববিদ্যালয় গড়তে, আমরা কেন পারবো না?   

Saturday, February 26, 2011

রাজহাঁসের মায়া

ঠিক আর দশটা দুপুরের মত, সেই দুপুরেও ছোট্ট অরণ্য বসে ছিল পুকুর পাড়ে, বাঁশের ধাপে বসে, জলের মাঝে পা চুবিয়ে, মনের আনন্দে জলকেলিতে মেতেছিল তার ছোট্ট দুখানি পা। শৈশবের কমনীয়তা তুলেছিল ঢেউ জলের মুকুরে। তার তুষার ধবল রাজহাঁসের বাচ্চাটা খেলে বেড়াচ্ছিল পুকুরের এ মাথা থেকে ও মাথা, তুলে জলতরঙ্গের মূর্ছনা... কি শান্ত মধুর এক ছবি। এই ছবিটা রোজ দেখা যায় ময়ূরকণ্ঠ গাঁয়ে। এই গাঁয়েই অরণ্যের কৃষক বাবা মায়ের অদিবাস। একটা মেটে ঘরের মধ্যিখানে, রোজ রাত্তিরে চাঁদের আলো বাসা বাঁধে, আকাশের চাঁদে অমাবস্যা থাকে, কিন্তু অরণ্যদের সেই কূটিরে পড়ে না তার ছায়াটুকুও। বাবা মা আছে মহা সুখে, তাদের চাঁদের টুকরো বুকে জড়িয়ে।

ভোর বেলা অরণ্যের ঘুম ভাঙ্গে পোষা পায়রা ঝাপটানিতে। সাথে পাল্লা দিয়ে জানালায় ডাকে চড়ুই পাখিরা। কে যেন তাদের ব্যস্ত করে রাখে পাখির কিচির মিচিরে অরণ্যের ঘুম ভাঙ্গাবার মেলাতে। সকালবেলা, ঘুম ভেঙ্গে জড়িয়ে ধরে বাবার গলা। মায়ের মিষ্টি চুমে ঝলকায় অরণ্যের চোখদুখানি। মাটির চুলোয় খড়ির আগুনে চলে মায়ের রান্না। সেবেলায় আগুনের আভায় রাঙ্গা হয়ে ওঠে অরণ্যের মা সখির মুকটুকুনি। তারপর বাবা চলে যায় চাষের মাঠে। আর অরণ্য ছোটে তার রাজহাঁসের বাচ্চাটা নিয়ে... জঙ্গলে বনেবাঁদাড়ে চলে তার নিত্য খেলা। দুপুরে সূর্যিমামা অরণ্যকে চোখ রাঙ্গালে, সে সারা গায়ে ধুলো কাঁদা মেখে ফেরে বাড়ি। মায়ের কপট রাগের বকুনি খেতে খেতে সেরে নেয় স্নান। তারপর কখন যেন, ছায়াঘেরা শান্ত কুটিরে, অরণ্য ঢলে পড়ে নিদ্রাদেবীর কোলে... বাবার হৈচৈ এ সে ঘুম যখন ভাঙ্গে তখন প্রায় বেলা গেছে ডুবে। সূর্য তখন লাজুক বধূর মত সর্বাঙ্গে রক্তজবার ছোঁয়া মেখে চলে গেছে সবার চোখের আড়ালে। আকাশে একটি দুটি করে তারা ফুঁটে। অরণ্যের বাবার হাতের বাঁশি সুর তোলে সন্ধ্যারাতের বাতাসে। বাবার কোলে মুগ্ধ হয়ে অরণ্য সে গান শোনে। কানদুটো তার এমনি করে করেই গান শিখে ফেলেছে। বাবার বাঁশিতে এখন সেও ছোট ছোট ফুঁ দিতে শুরু করেছে। আর তাতেই খুশিতে বাদ্য হয়ে বাজে মায়ের হাসির ঝর্ণাধারা।

সেদিনও বাবার বাঁশি হাতে রাজহাঁসটা নিয়ে ছিল সে পুকুর পাড়ে বসে। বাঁশিতে দু’একটা ফুঁ দিয়েছে যেই, অমনি কোত্থেকে এক কুচবরণ কোকিল এসে বসল পুকুর পাড়ের পাকুর গাছে। অরণ্যের বাঁশি একটু থামলেই কোকিলটা সুর তোলে কুহু কুহু স্বরে। অরণ্য থামে, কোকিল গায়। অরণ্য গায়, কোকিল থামে... বেশ মজাতো! অরণ্য বাবাকে শোনায় কোকিলের কথা। পর দিন আবার ছুটে যায় হেথায়। কোকিল আসে। এমনি করে কাটে সেই পুরো বসন্তটা। তারপর আর আসে না। অরণ্যের মন খারাপ। বছর ঘুরে আবার বসন্ত এলে একদিন অরণ্যের মন খারাপের বেলা সাঙ্গ করে আবার কোকিলটা এসে বসে সেই পাকুড় গাছে। অরণ্য হাসে... সেইবার কোকিল আসে তার কোকিলনীকে সাথে নিয়ে। এইফাঁকে অরণ্য বেশ ভালো বাজাতে শিখে গেছে। সেই পুকুরে পাড়ে যেন এবার গানের মেলা বসেছে। মাঝে রাজহাঁসটা মন খারাপ করে থাকে আর জল তোলপাড় করে প্যাঁকপ্যাঁক করে। মন খারাপ সে গলায় প্যাঁকপ্যাঁকানি ছাড়া সুর বেরোয় না বলে। রাজহাঁসের চোখের জল মেশে পুকুরের জলে। অরণ্য কিন্তু বাড়ি ফেরে তার রাজহাঁসটাকেই কোলে নিয়ে।

একভোরে অরণ্য ঘুম ভেঙ্গে দেখে, নেই তার রাজহাঁসটা, নেই তো নেই, কোত্থাও নেই। অরণ্য জলে খোঁজে, মাঠে খোঁজে, বনে খোঁজে, হাটে খোঁজে... নেই কোত্থাও নেই। বুক ভাসে তার চোখের জলে, এত্তো মায়া তার রাজহাঁসে। কোথায় গেলো সে অরণ্যকে ছেড়ে! অরণ্য একা পুকুর পাড়ে বসে কাঁদে। পুকুরের জল এখন শান্ত, নেই তাতে জলতরঙ্গ। আজ নেই তাতে রোদের খেলা, আজ নেই সেথায় গানের মেলা। গাছের শাখে কোকিল জোড়া, তবু আজ অরণ্যের বাঁশি বাজে না। একটু একটু করে বেলা গড়ায়। তারপর হঠাৎ বিকেলের আলো সোনালি হয়ে উঠলে, কোকিল জোড়া নেমে আসে অরণ্যের ঠিক দুপাশে। রিনরিনিয়ে সুধায় তারে, মনের ব্যথা কিসের তরে? ধ্যান ভেঙ্গে অবাক হয়ে চেয়ে থাকে, কোকিলেরা কথা বলছে! কথা বলছে তারই বাঁশির সুরে! বুকের মধ্যে কে যেন ঢোল পেটাচ্ছে! সেই ঢোলের বাজনা কমলে, সে তার রাজহাসির কথা বলে। তার বুকের মানিক রাজহাসিটা চলে গেছে তাকে ফাঁকি দিয়ে। কষ্টে তার চোখে জোয়ার আসে। কোকিল দুটো উঠে পড়ে অরণ্যের কোলে। তাদের মাথা অরণ্যের ব্যথার জলে ভেজে। কোকিলেরা বলে, “আর কেঁদোনা অরণ্য সোনা! তোমার ব্যথায় রাজহাঁসের মায়া। পুকুরের জলের কণায় কণায় রাজহাঁসের ছায়া! ঐযে তোমার চোখের জলে ভিজল মোদের মাথা, আমরা হলেম তোমার ব্যথায় বাঁধা। যেদিন হবে এ ব্যাথার ছুটি, সেদিন তবে মোদের মুক্তি! আর কেঁদোনা অরণ্যমণি!” অরণ্যমণি.. কেঁদে কেঁদে ফেরে বাড়ি!

সেই ভোরে, অরণ্যর ঘুম ভাঙ্গে কোকিলের ডাকে। তাদের মেটে ঘরের জানালা ফোঁকরে বসে ডাকছে কোকিল। কোকিলনী বলে, বাইরে এসো অরণ্যসোনা, আজ আমরা যাবো তোমার রাজহাঁসের খোঁজে, তুমি যাবে কোকিলের পিঠে চেপে, আর আমি উড়ব সাথে সাথে! অরণ্য বেরিয়ে আসে চটপট, টুপ করে চেপে বসে কোকিলের দুডানার মধ্যিখানে। উড়ে চলে আর চলে, এগ্রাম থেকে ওগ্রামে, এদেশ থেকে ওদেশে, এই নদী থেকে সেই নদীতে, কত্ত কিছু দেখে সে, কি সুন্দর পৃথিবীতে সে বাস করে! কিন্তু তাতে কি তার মন ভরে? তার  চোখ আঁতিপাতি করে খুঁজছে তার শুভ্রধবল রাজহাঁসটাকে। যেতে যেতেই হঠাৎ চোখে পড়ে এক ঝলমলে জলাধার! তার মাঝে একখন্ড সাদা তুলোর মত রাজহাঁস! অরণ্য নামে সেই জলাধারের পাড়ে, ডাকে তার রাজহাঁসকে। রাজহাঁসও জলতরঙ্গ ছুটিয়ে চলে আসে জলের ধারে। অরণ্য দুহাত বাড়ায় তার রাজহাঁসর পানে, কিন্তু অবাক ব্যাপার সে কিছুতেই নাগাল পায়না হাসের ডানা! রাজহাঁসও তার দুহাতে দেয় না ধরা! কি করবে ভেবে না পেয়ে, সোনাযাদু বসে থাকে চুপটি করে, ম্লানমুখে! ঠিক তখনই জলের মাঝে কিসের যেন ঝড় ওঠে, ঝলমলে জলের ঝলকানিতে চোখ বুঝি যায় ঝলসে! অরণ্য দেখে, জলকুমারী উঠে এসেছে জলের গভীর হতে। দাঁড়িয়ে আছে তারই সামনে। এতো স্বচ্ছ জলের শরীর তার, তাতে আলো পড়ে হীরে ঠিকরানো আলোর মত চারিদিক ছড়িয়ে পড়েছে। সে মুখে জলের হাসি। সমস্ততায় যেন জলের ছন্দ! এমন সুন্দর তো সে কল্পনাও করতে পারে না। এ সে কোথায় এসে পড়েছে! বিশ্ব চরাচর ভাসছে জলে, সে নিজেও যেন ভেসে আছে আলোকিত জলের সমুদ্রে! কোকিল দুটো গায়েব। তার রাজহাঁস ডানা ঝাপটাচ্ছে জলকুমারীর পায়ের কাছে। তখন জলকুমারী বলে ওঠে, তুমি এসেছো তোমার রাজহাঁসের খোঁজে, কিন্তু সে তো হারিয়ে গেছে তোমার কাছ থেকে! ও এখন আমাদের। অরণ্যমণির চোখে জল আসে, সুধায় সে, তোমরা কারা? জলকুমারী উত্তর দেয়, আমরা সুন্দর! যে সুন্দর লুকিয়ে থাকে ভালোবাসার বুকের মাঝে! কবিতার পরতে পরতে, সবুজ পাতায় রোদের যে ঝলকানি দেখে তোমরা মুগ্ধ হয়ে যাও, তারও গভীরে! যে গানে তোমরা সুর দাও, তারই অন্তর সুধার মাঝে! ময়ূরকন্ঠ গাঁয়ে তোমাদের বাড়িতে যে সুখ ভাসে, সেই সুখই হলেম আমরা, সেই সুখের স্বরূপ, এরই নাম সুন্দর! তুমি তোমার মাকে না বলে আজ চলে এসেছো, তোমার মায়ের চোখের জলের মাঝে যে ভালোবাসা আছে, সেই হলেম আমরা। তোমার রাজহাঁসের বুকের মাঝে ছিল সেই ভালোবাসা। গলায় তার সুর ছিলো না, তাই কোকিলের মত গাইতে পারেনি, তোমার বাঁশির সুরের ছন্দে সে বলতে পারেনি তোমার সাথে কথা। কিন্তু সেই ছিলো তোমার খেলার, তোমার হাসির, তোমার বাঁশির সবচেয়ে বড় অনুরাগী। সে তো তুমি বোঝনি। তার বুকের মাঝে অভিমানে ঝড় উঠেছিল, তুমি তার জলতরঙ্গের খেলা ভুলেছিলে বলে, তোমার বাঁশির সুরে সে সুর দিতে চেয়েছিল, পারেনি বলে। তাই অভিমানের বেলা সাঙ্গ করে সে চলে এসেছে আমাদের অসীম সুন্দর জগতে! দেখো, তার সুন্দর তোমায় আজ এখানে টেনে এনেছে!

অরণ্যের কাছে যাদুমন্ত্রের মত লাগে! সে বলে উঠে, আমার রাজহাঁস ফিরিয়ে দাও আমাকে। জলের হাসি হেসে বলে জলকুমারী, এখন নয় অরণ্যমণি। তুমি যেদিন বুঝবে তোমার রাজহাঁসের হৃদয়ের গান, সেদিন সে ফিরে যাবে। জলের মাঝে জল হয়ে যাও অরণ্য সোনা, কবিতার মাঝে কবিতা। বুকের মধ্যে দেখো তোমার মায়ের বুকের ভালোবাসা! হয়ো বাবার প্রানের ছায়া। বাঁশির সুরে তুলো তোমার মনের গান। তোমার গান, তোমার প্রান, তোমার জীবন যেদিন ভালোবাসার জীবন্ত স্বত্তা হয়ে উঠবে, সেদিন পাবে তুমি তোমার রাজহাঁস। নইলে...
-নইলে কি?
জলকুমারী বলে, তোমার মায়ের চোখে জল, তোমার বাবা পাগলের মত তোমায় খুঁজে বেড়াচ্ছে। রাজহাঁসের মত ওরাও হারিয়ে যাবে। হারিয়ে যাবে তোমার বাড়ির চড়ুইও। চিৎকার করে উঠে অরণ্যমণি, না! কাঁচের মত ভেঙ্গে যায় জলকুমারী আর রাজহাঁস। চমকে উঠে দেখে সে, সে আছে তাদের মায়া ভরা, ছন্দে গড়া ছোট্ট ঘরে। তার চিৎকারে ঘুম ভেঙ্গেছে বাবা-মা দুজনেরই। ভয়ে লুকায় মায়ের বুকের মাঝে, হুঁ হুঁ করে কাঁদে অরণ্যমণি। বাবা সুধায় ছেলেকে, “কি হয়ছে সোনা? স্বপ্ন দেইখা ডরাইছ? ডরের কিছু নাই, এইযে আমরা তোমার লগেই আছি”।

পরেরদিন সকাল থেকে আর আসে না সেই কোকিলদুটো, যারা রিনরিনিয়ে বাঁশির সুরে কথা বলত, বাঁশির সাথে সুর মিলিয়ে গায়তো। বাপে-ছেলেতে গান বাঁধে, সে গান ভেসে বেড়ায় তাদের সুখের ঘরের বাতাসে বাতাসে। ছেলেটার বাঁশির সুর তো নয়, যেনো যাদু, তাতে যেন মনের কথা চুঁইয়ে চূঁইয়ে পড়ে। গর্বে অরণ্যমণির বাপ-মায়ের চোখের কোণে জল আসে! তারা কাঁদে, সুখে!

ভালবাসা দূর্বলতা, ভালবাসাই অগ্নিশিখা!

প্রানের ডাকে বাঁধন ছিড়ে, 
সত্য জয়ের দৃপ্ত লয়ে,
আমি দূর্বিনীতা বিপ্লবী!

তোমরা বাঁধো স্বেচ্ছাচারে, 
খেল আমার স্বপ্ন নিয়ে, 
ভরালে মন অবিশ্বাসে, 
ভাবলে নাতো, হৃদয় কাঁদে!

ভালবাসা দূর্বলতা,
ভালবাসাই অগ্নিশিখা!
মিথ্যে স্রোতের মিথ্যে মায়া, 
জ্বালিয়ে দিলেম সব ছলনা।

নিজের হাতেই এবার নিলাম, 
স্বপ্ন জয়ের চিত্ত সুখে, 
বেঁচে থাকার স্বাধীনতা!

এসো কর স্নান নবধারাজলে

আমি সূর্যকে শুধিয়েছি তোমার কথা;
সূর্য হাসে।
চুলে গোঁজা কাঠগোলাপকে
শুধিয়েছি তোমার কথা,
ওরা কথা বলে সুবাসে।
আমি নিত্য বসি যে গাছের ছায়ে,
যে পাখি খেলে শাখে,
ওরা আমায় ডাকে;
তোমার কথা বলবে বলে।
আমার কান ছুয়ে থাকা ঘাসেরা
কথা বলে স্পর্শে স্পর্শে।
আমি প্রকৃতির আদরে আদরে,
জীবনের রঙ-রূপ-গন্ধে,
বেঁধেছি হিয়া এক তন্ময় কাব্যে।

সাবধানে ফেলি পা শিউলিমাখা পথে,
শিউলিরা যদি পায় ব্যথা আমার নিষ্ঠুর আঘাতে!
ওরা যে তোমার কথা বলে আমায় শিউলি বরষে।