প্রিয় অরুণাভ,
প্রত্যেকটা মানুষের জীবনে কিছু জায়গা থাকে, যা সে সারাটা জীবন দুহাতে ধরে রাখতে চায়। কখনো পারে আবার কখনো পারে না, সময় যেন এই পারা বা না পারার মাঝে হৃদয়ের আঁকুতির দিকে নির্বিকার মমতাহীন চোখে তাকিয়ে থাকে। একমাত্র সময়ের কিছুতেই কিছু আসে যায় না। আলোকরশ্মি মহাবিশ্ব পরিভ্রমণ করতে গিয়ে কোন মূহুর্তে কোন না কোন বিন্দু অতিক্রম করবেই, কোন ঘটনাই এই সত্যকে থামিয়ে দিতে পারে না। আমি সেই পরিক্রমনশীল আলোকরশ্মির মত নই, তাই আমার ভয় করে। কিসের ভয়? হয়তো যা কিছু আঁকড়ে ধরে বেঁচে আছি আমি, সেইটুকু হারিয়ে যাবার ভয়। আমি এখন জীবনে কি করবো, কতখানি কাজের মাঝে আমার স্বত্তা দিপ্তী ছড়াবে, তা নিয়ে আর শংকিত নই। আমি ২৭ বছরে এইটুকু জেনে গেছি, আমার প্রবণতা কর্ম, আমার প্রবণতা আজানাকে জানা। আমি কেবল ভাবি, আমার কর্মের পিছনে আমার স্বত্তার যে উদ্দীপনা, সেইটুকু থাকবে কিনা। যে মানুষের ভালোবাসার জোরে, আমার স্বত্তার এই স্থিরতা, সেই অসীম শক্তিটুকু আমৃত্যু জ্বাজল্যমান থাকবে তো?
আজকাল আমি অনেক ক্ষেত্রেই পাথরের মত অনুভূতিহীন, মনে হতে থাকে, আমার অনুভূতি বা অনুধাবণের ক্ষমতাও নেই, অনুভবের ইচ্ছাও নেই। আমি তখন নির্বিকার সময়ের হাতেই ছেড়ে দেই আমার আগামীকাল। হৃদয় যখন আশংকায় শীতল হয়ে ওঠে, তখন সময়ের মত নির্বিকার হয়ে ওঠার চেষ্টা করাটাই যেন একমাত্র গতি।
-নীলকণ্ঠ
১ সেপ্টেম্বর, ২০১২