Monday, August 27, 2012

নীলকণ্ঠের চিঠি (২৭শে আগস্ট, ২০১২)

প্রিয় অরুণাভ, 

পার্থর কাছ থেকে আমি জীবনের নতুন একটা দৃষ্টিভংগীর কথা জানলাম। লাইফ ইজ বিউটিফুল মুভি থেকে অণুপ্রাণিত দৃষ্টিভংগী। চলচিত্রটি তো দেখেছি আগেই, কিন্তু কখনও ভেবে দেখিনি অমন একটা জীবনযাপন করা সম্ভব কিনা। মুভিটাকে কেবল মুভি বলেই মনে হয়েছিল, মনে হয়েছিল কেবল চলচিত্রেই অমন রূপকথার মত জীবনযাপন সম্ভব, যেখানে কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্পের জীবনও রূপকথার অংশ হয়ে যায়, এমনকি মৃত্যুও। পার্থ জানালো সুব্রতর কথা, যে কখনো ঋণাত্মক দৃষ্টিভংগীর প্রকাশ করে না। কষ্ট যন্ত্রণা ঝামেলাকেও সুন্দর করে মেনে নিতে জানে। জানিনা, সুব্রত কতদিন পারবে এমন সুন্দর জীবনের প্রবাহ ধরে রাখতে, কিন্তু সুব্রত যে জীবন চর্চা দেখিয়েছে, তা থেকে কিছু শেখার আছে আমার। 

আজ একটা  ঘটনার অথবা ভিডিও চিত্রের সম্মুখীন হলাম, যার জন্য আমি প্রস্তুত ছিলাম না। আমি সুব্রতর মত মহান হতে চাইলেও এখন হয়ে উঠতে পারিনি, তাই হৃদয়ের ভিতরে একটা শ্রদ্ধার আসনের খানিক পতন হল, পতনের শব্দটা কেবল আমি শুনেছি সত্য, তারচেয়েও বড় সত্য আমি শুনতে চাইনি কখনো। চাইনি অনুপ্রেরণার জন্মস্থল স্তব্ধ হয়ে যাক। এখন এই স্তব্ধতা আমাকে মুখরতায় পরিণত করতে হবে। ইস, সুব্রতর মত যদি হাসতে হাসতে ভুলে যেতে পারতাম! আমি জানি, পারবো একদিন।

বাংলাদেশ নামের ছোট্ট ভূখন্ডের মাঝে হয়ত জীবন অথবা কর্মকে সীমাবদ্ধ করে ফেলা প্রহসন ছাড়া কিছুই হবে না, অন্ধ জাতীয়তাবাদী চিন্তা একধরনের জাতিভেদও বটে। এবার বৈশ্বিক চিন্তায় নিজেকে আলোকিত করবার সময় এসেছে। সে পথে যদি কিছু করতে পারি আমি, সে পথে যদি আসে সংকীর্ণতা থেকে মানবতার মুক্তি!

-নীলকণ্ঠ
২৭শে আগস্ট, ২০১২।