Monday, February 20, 2012

জৈবিক বুদ্ধিমত্তার নিরিখে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা


মানুষ এই পৃথিবীর সবচেয়ে উন্নত প্রাণী, কিন্তু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ব্যবহারে মানুষ অনেক উন্নত একথা সত্যি হলেও বিস্ময়কর ভাবে আমাদের মস্তিষ্কটিই আমাদের কাছে বিরাট একটি বিস্ময় রয়ে গেছে। আমরা এখনো জানতে পারিনি, ঠিক কি ঘটছে মস্তিষ্কের অভ্যন্তরে। আকাশের তারা দেখে যতটা ভাবনায় ডুব দিয়েছি, তার চেয়েও বিস্ময়কর ব্যাপার কিভাবে আমরা ভাবছি? কিভাবে শিখছি, কিভাবে সৃষ্টি করছি শিল্পের সব বিমূর্ত ধারণা? জানিনা, তবে থেমে নেই আমাদের জানার চেষ্টা। বিগত শতাব্দীর অনেকটা সময় জুড়েই মানুষের ধারনা ছিল, মানুষের মস্তিষ্কের অভ্যন্তরে কি ঘটছে, তা জানা প্রায় অসম্ভব। চিকিৎসাবিজ্ঞানে হিউম্যান এনাটমী যেরকম যুগান্তকারী ভুমিকা রেখেছে, ততখানি গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা নিউরোএনাটমি নিউরোসায়েন্সে রাখতে পারেনি। তার প্রধান কারনগুলোর মধ্যে পড়ে, মস্তিষ্ক বা নার্ভাস সিস্টেম মানব দেহের সবচেয়ে সংবেদনশীল অংশ, যার ন্যূনতম বিচ্যুতির কারনে মানুষের কার্যক্রমে বড় রকমের প্রভাব পড়তে পারে। তার দরুন বর্তমান সময়ে এসেও আমরা সরাসরি জীবিত মানুষের মস্তিষ্কে কোন ইলেক্ট্রনিক প্রোব বসাতে পারিনা, মস্তিষ্কের কার্যক্রম বুঝতে গিয়ে যাতে মস্তিষ্কের ক্ষতি না হয়ে যায়, সেই দিকে সবসময় লক্ষ্য রাখতে হয়। মানব দেহ যতটুকু অতিরিক্ত বৈদ্যুতিক প্রবাহ সহ্য করতে পারে, সেই সীমার মধ্যে আমাদের এক্সপেরিমেন্ট গুলো চালাতে হয়। কারণ মস্তিষ্কের একটি কোষও যদি ক্ষতিগ্রস্থ হয়, তা আর পুনরায় আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেয়া সম্ভব হবে না। মানবেহের অন্য সব কোষের স্বতঃস্ফূর্ত পুনঃস্থাপন প্রক্রিয়া থাকলেও নিউরণের নেই। তাই মস্তিষ্কের আঘাত বা কোন রকম ক্ষতিকে এড়ানোর সর্বোচ্চ চিন্তা মাথায় রেখেই কাজ করতে হয় এখানে। এখনও পর্যন্ত অনেক বৈজ্ঞানিক পরীক্ষায় সাবজেক্ট হিসেবে ব্যবহার করা হয় মানুষের নিকট আত্মীয় শিম্পাঞ্জী বা বানরকে। মানুষের মৃত্যুর পর পরই এর জৈব কোষগুলোর পচন প্রকিয়া শুরু হয়ে যায়। তখন মস্তিষ্ক কেটেকুটে দেখেও খুব বেশী লাভ নেই, সমস্ত স্নায়ুতন্ত্র জুড়েই নিউরণ ও তার এক্সনগুলো ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে, কিন্তু মৃত্যুর সাথে সাথে তাদের নিউরাল অ্যাকটিভিটি বন্ধ হয়ে গেছে। এই সমস্ত সীমাবদ্ধতা এবং সেই সাথে মানুষের অর্জিত জ্ঞানের অভাবের কারনেই  একটা সময় পর্যন্ত বিজ্ঞনীদের ধারনা ছিলো, মস্তিষ্ক নামের এই ব্ল্যাক বক্সটার প্রকৃত কার্যপ্রণালী জানা সম্ভব নয়। কিন্তু মানুষের আগ্রহ কি তাই বলে থেমে থাকতে জানে?

জেনেটিক-মেমেটিক কো-এভোলিউশন (শেষার্ধ)


সেই আদিম মানুষ, যার শরীর আবৃত ছিল এক স্তর লোমে, খুঁজে খুঁজে পশু শিকারের জন্য বেছে নিয়েছিল ধারালো পাথর, পাথরে-পাথরে ঠোকাঠুকিতে জ্বালিয়ে ফেলেছিল অগ্নিস্ফুলিঙ্গ, সে কি নিজেকে জিজ্ঞেস করেছিল, কেন আমি সবার চেয়ে আলাদা? কিংবা সুন্দরবনের শিকারী বাঘ, ক্ষুধা মেটাতে যে অভাবনীয় মাত্রার দ্রুতগতি আর শারীরিক শক্তিতে অনায়াসে ঘায়েল করে ফেলছে বুনো হরিণ, সে কি নিজের কাছে কখনো জানতে চেয়েছে, আমি কি করে এতো দ্রুত ছুটতে পারি? এই “আমি” বোধটি কি আসলেই উপস্থিত ছিল আমার আদিম পূর্বপুরুষের মাঝে বা শক্তিশালী বাঘের মস্তিষ্কে? এই প্রশ্নগুলোর সঠিক উত্তর আমার জানা নেই। তবে এটুকু জানা আছে… মানুষ নিজেকে প্রশ্ন করেছে, আমি কে? কোথা থেকে এলাম, কিভাবে এলাম? আত্মপরিচয় সংক্রান্ত প্রশ্নোত্তর-পর্বের শেষে মানুষ এখন আছে ‘কেন আমি আলাদা?’ এই প্রশ্নের উত্তর সন্ধানে।

জেনেটিক-মেমেটিক কো-এভোলিউশন (প্রথমার্ধ)

“Koi desh perfect nehi hota, Usko perfect banana pudta hai.” (“No country is perfect. It has to be made perfect.”)
তেজদীপ্ত কন্ঠে বলে ওঠে এক যুবক, সেই প্রত্যয়ী তরুণদলটি হাতের মুঠোয় প্রাণ নিয়ে রেডিওতে জানান দিচ্ছে, এক এক করে কয়েকজন ক্ষমতাধারী দুর্নীতিপরায়ণ মানুষকে তারা ছুটি দিয়েছে পৃথিবীর দেনা পাওনার খাতা থেকে… তারা জানে, তাদের নিঃশ্বাস ফুরিয়ে আসার সময় ঘড়ির কাটার চেয়েও দ্রুতই এগিয়ে আসছে… এমনই এক মুহূর্তে তারা দেশবাসীকে জানান দিচ্ছে… এই দেশকে বদলে দেবার প্রত্যয়ের কথা! এটা আমার অন্যতম প্রিয় চলচ্চিত্র “RANG DE BASANTI” এর সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ মুহূর্ত! বুলেটবিদ্ধ রক্তাক্ত শ্বাসরুদ্ধকর দৃশ্যটা আমাদের কাছে একটা বার্তা পৌঁছে দিতে চেয়েছে… যদি দেশটাকে বদলে দিতে চাও তবে বদলে ফেলো, করবো বলার আগে বলে ওঠো আমি যা করতে চেয়েছি, তাই করেছি!এই দেশটাকে অন্যায়ের কালো রঙ থেকে তুলে শুদ্ধতার রঙে আলোকিত করে দেব, কথাটি যতটা অন্তঃসারশূন্য, আমি বা আমরা শুদ্ধতার পথে প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় পদক্ষেপটা বাড়িয়ে ফেলেছি, এই উচ্চারণটা ততটাই আনন্দে দৃপ্ততায় সাহসে পরিপূর্ণ!

মস্তিষ্কে, অনুরণন সংগোপনে – নিউরণ কিভাবে কাজ করে?


নিউরণের গঠন নিয়ে অনেক হৈচৈ করলাম, এইবার একটু দেখি, স্নায়ুকোষ কিভাবে কাজ করে, কিভাবে তথ্য পরিবহন করে, তার কার্যনীতিটা কেমন?
আগেই বলেছি, মানব দেহের ভিতরে যা কিছুই হয়, তা মূলত কিছু রাসায়নিক বিক্রিয়া। কিংবা একটি অনুর অথবা আয়নের দেহের ভিতরে একটা জায়গা থেকে আরেকটা জায়গায় যাওয়া। সুতরাং নিউরণের কার্যক্রমেও যে অনু পরমাণু বা আয়নের একটা জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যাওয়াই হবে, সে নতুন কিছু নয়।
কোষের ভিতরে এবং বাইরে আছে তরল পদার্থ এবং তাতে ভেসে বেড়ায় কিছু আয়ন, প্রোটিন ইত্যাদি। ব্যাপারটা এভাবে চিন্তা করা যেতে, খাবার লবন এবং অন্যান্য ধরণের কিছু লবণ, কিছু অদ্রবণীয় পদার্থকে যথেষ্ট পরিমাণ পানির মধ্যে ভালোভাবে মিশ্রিত করে খুব ছোট ছোট ফুটো বিশিষ্ট কোন পর্দার মাধ্যমে একটি পাত্রে বিশুদ্ধ পানি থেকে আলাদা করে রাখা হয়েছে। পর্দাটি সেক্ষেত্রে কোষ পর্দার মত কাজ করবে, তবে শর্ত হল, পর্দাটি হতে হবে সেমি পারমিয়েবল বা সিলেকটিভলি পারমিয়েবল। তাহলে সেমি পারমিয়েবল পর্দার বাধা অতিক্রম করে আয়ন এবং অন্যান্য পদার্থগুলো উচ্চ ঘনত্বের তরল থেকে বিশুদ্ধ তরলের দিকে যেতে চেষ্টা করবে। কোন আয়নকে যেতে দেবে, আর কোন আয়নকে যেতে দেবে না, তা নির্ভর করবে, মধ্যস্থ পর্দাটি কখন কোন আয়ন বা পদার্থের জন্য কতটুকু অতিক্রম যোগ্য, তার উপর। এইভাবে কিছু আয়ন থাকে কোষের ভিতরের তরলে আর কিছু আয়ন কোষের বাইরের তরলে। আর এই দুই তরলকে আলাদা করে রাখে সেল মেমব্রেন বা কোষ পর্দা নামের একটি সেমি-পারমিয়েবল পর্দা, যা সিলেকটিভলি পারমিয়েবলও বটে। যার মধ্য দিয়ে কিছু নির্দিষ্ট অনু যেতে পারে, আর কিছু অনু যেতে পারে না। অর্থাৎ, কিছু রাসায়নিক দ্রব্যকে সে সময় মত যেতে দেবে, আবার সময় মত যেতে দেয় না।

মস্তিষ্কে, অনুরণন সংগোপনে – নিউরনের গল্প

আমি যখন স্কুলে পড়তাম, তখন জীববিজ্ঞান বইয়ের জীবকোষ সংক্রান্ত অধ্যায়ে একটা অদ্ভুত দর্শন কোষের ছবি আঁকা থাকতো, আর লেখা থাকতো, স্নায়ুতন্ত্র গঠনকারী কোষকে বলা হয় নিউরন। অন্যরা কি করত বলতে পারবো না, কিন্তু যতবার আমি ছবিটা দেখতাম, ততবার মনে হত, একটা কোষ দেখতে এতো সুন্দর হয় কি করে? একটা তন্তু আছে, যার নাম কিনা অ্যাক্সন, অন্যান্য কোষের মত কোষদেহ আছে, নিউক্লিয়াস আছে, কিন্তু কোষদেহ থেকে আবার ডেনড্রাইট নামের অনেকগুলো শাখা প্রশাখা বেরিয়েছে। আমার তখন ইন্টারনেটে পদচারণা ছিল না। আমাদের স্কুলের লাইব্রেরীটা ছিলো অনেকটা শোকেসের মত, বই তাতে সাজানো থাকতো। কলেজের আপুরা এসে কিছু ক্লাসের বই পড়ত, কিন্তু স্কুলের কেউ আসতো না লাইব্রেরীতে… জীববিজ্ঞানের বই খুঁজে দেখেছিলাম, পেয়েছিলাম কতগুলো উচ্চমাধ্যমিক ক্লাসের বই, সেখানেও এমন কোন তথ্য পাইনি নিউরন সম্পর্কে, যা আমি জানিনা। টের পেতাম, মনের মধ্যে জানার আগ্রহ, কিন্তু তারচেয়েও বড় কথা, এই অদ্ভুত কোষটাকে আমার অদ্ভুত সুন্দর লাগে, অ্যাক্সন, ডেনড্রাইট, নোড অফ র্যা নভিয়ার, নিউরনের বিভিন্ন অংশের এইসব নামগুলোকে পর্যন্ত আমি ভালোবাসতে শুরু করেছি। আর বিস্ময়, এই কোষটা ছিলো বলেই আমি ভাবতে পারছি, মনে রাখতে পারছি, শিখতে পারছি… কি কল্পনাতীত ক্ষমতা এই কোষটার! কী এক বিস্ময়!

মস্তিষ্কে, অনুরণন সংগোপনে – নিউরোএনাটমি


মাতৃভাষা, শব্দটার আবেদনই আলাদা! মায়ের মুখে শোনা ভাষা তো বটেই, মায়ের গর্ভ থেকেও শোনা ভাষা এটা। এভাবেই ভাষার বুনিয়াদ। তারপর বর্ণমালায় বই হাতে নিয়ে পড়তে শেখা, লিখতে শেখা। আমাদের এক শিক্ষকের মেয়ে তাকে জিজ্ঞেস করেছিল, মা, তুমি বলেছ, “এ” কে এ বলতে আবার “A” কেও এ বলতে, কোনটা আসল এ? এইভাবে শনাক্ত করতে, এক ভাষাকে আরেক ভাষায় রূপান্তর করতেও আমরা একসময় শিখে যাই। আসল কথা হল, ইটের পর ইট গাঁথা! প্রথম ইটটা না বসালে গাঁথা যায় না দ্বিতীয় ইট! তাই মস্তিষ্ক সপর্কে জানতে গেলে আমাদের প্রথমে যেটা জানতে হবে, তা হল নিউরো এনাটমি। একটা সময় ছিল যখন প্লেটো এরিস্টটল মন বা স্বত্তার অস্তিত্ব নিয়েই ছিল দ্বিধান্বিত। সেই অতীতের দর্শন যুগ পেরিয়ে আমরা এখন পরীক্ষামূলক বিজ্ঞানের যুগে। স্টিফেন হকিং এর মত দর্শনকে মৃত বলছি না, কিন্তু মস্তিষ্ককে কেটেকুটে দেখার মধ্যে, স্নায়ুকোষে আয়নিক ঘনত্বের পরিবর্তন বা মস্তিষ্কের ঠিক কোন অংশ দেহের কোন অংশকে নিয়ন্ত্রন করছে, তা জানার প্রচেষ্টায় এখন আমরা ধোঁয়াশা দর্শনের মুখাপেক্ষী নই। আমাদের জানা শেষ হতে মেলা দেরী এ সত্যি, তবে কোনটা “এ” আর কোনটা “A”, সে আমরা জানি। এই বিল্ডিং ব্লকগুলোকেই একটু নেড়েচেড়ে দেখব আজ।

মস্তিষ্কে, অনুরণন সংগোপনে – নিউরাল এভোলিউশন


এক মহাবিস্ফোরণে ফলে সৃষ্টি হল পৃথিবী, সেই জলন্ত অগ্নিপিন্ড ক্রমেই ঠান্ডা হয়ে এলো একসময়, কিভাবে কিভাবে যেন কেমন জটিল জটিল রাসায়নিক বিক্রিয়ার ফলে উদ্ভব হল প্রথম প্রানের, এই কথাগুলো যখন শুনতাম স্কুলবেলায়, কেমন যেন বিস্ময়কর লাগতো! সবই রহস্য! তখন আমার সীমিত জ্ঞানের ভান্ডারকে কেবল বিস্মিত করত না একটা ব্যাপার, প্রথম প্রানের ছিল না মস্তিষ্ক। থাকবে কি করে? তার তো নাকি নিউক্লিয়াসটাই ছিল না সুগঠিত। পৃথিবীর জন্ম, প্রানের উদ্ভব এসব কিছু বিজ্ঞান আর ধর্মের ঘাত প্রতিঘাতে রহস্যময় ঠেকলেও আমার সাধারণ জ্ঞান ঠিকই মেনে নিয়েছিল, বেঁচে থাকার জন্য মস্তিষ্কের প্রয়োজন নেই। মানুষের মস্তিষ্ক থাকলেও মানুষের শরীরে বাসা বাধা ব্যাকটেরিয়াটা মস্তিষ্ক ছাড়াই দিব্যি বেঁচে আছে আর সু্যোগ পেলেই আমা্র মত মানুষকে অসুস্থ করে ফেলছে!

Thursday, February 16, 2012

মস্তিষ্কে, অনুরণন সংগোপনে – সূচনা

মহাবিশ্বের এক ছোট্ট গ্রহে বসবাস আমাদের, এই জীবজগতের অসংখ্য উদ্ভিদ এবং প্রাণীর এবং তাদেরই একাংশ হয়ে মানুষের। হ্যা, জীবজগত, উদ্ভিদ, প্রাণী এসবকিছু বলার পরেও বিশেষভাবে আলাদা কর বলা প্রয়োজন হচ্ছে মানুষের কথা, যারা আদতে আর দশটা প্রাণীর মতই প্রাণীকূলের আরেকটি প্রজাতি মাত্র। তবু কেন এইভাবে আলাদা করে বলতে হচ্ছে? কারণ, এই যে আমি লিখেছি, আপনি এখন পড়ছেন, ঠিক এইভাবে আর কোন প্রাণী পারছে না লিখতে পড়তে। আমি ভাবছি, আপনাকে ভাবাচ্ছি, এমনি করে কত না নানান ভাবে প্রতিমুহূর্তে আমরা করছি যোগাযোগ। চিন্তা করুন সে সময়ের কথা, যখন মানুষ আগুন দেখে ভয়ে পালাতো, মানুষের বসবাসের জঙ্গলগুলো আগুনে পুড়ে হতো ছারখার। ডালে ডালে ঘর্ষণে যে আগুনের স্ফুলিঙ্গ সৃষ্টি হত, শুকনো পাতায় ছড়িয়ে পড়ে সে আগুনের ফুলকি থেকে সর্বগ্রাসী দাবানল কেড়ে নিতো মানুষের প্রাণ, স্থান আর সঙ্গঘবদ্ধতা, তাকে ভয় না পেয়ে উপায় কি ছিল? তবু সেইকালে মানুষ চিন্তা করেছে, কেন এই আগুন? কেন আকাশ থেকে আসে বজ্রের গর্জন। তারা জানেনা কিছুই, জানার নেই উপায়ও কোন। কিন্তু প্রশ্নটা ঠিকই করে ফেলেছে। অজ্ঞতা থেকে হয়ত সেদিন আগুনের আক্রোশ মেটাতে পূজো দিয়েছে আগ্নিদেবকে, সে মানুষের ব্যর্থতা নয়, বরং সাফল্য এইখানেই, মানুষ প্রশ্নটা করে ফেলেছে নিজেদের কাছে, খুঁজতে শুরু করেছে উত্তর! আর এইভাবেই কোন এক অতি আদিম যুগে ঘটেছিল বুদ্ধির উন্মেষ। সেই মানুষ, আজ জ্ঞান বিজ্ঞান সভ্যতা, সংস্কৃতি, সমাজ কতকিছুর ধারক ও বাহক! সেই আদিম এক বুদ্ধির উন্মেষ কোথায় নিয়ে এসেছে মানুষকে। কিন্তু কই, আর কোন প্রাণীতো পারেনি এই উত্তোরণে সামিল হতে। বনে আগুন লাগলে আজো বন্যপশুরা প্রাণ বাঁচাতে ছুটে পালায়, কিন্তু হাজার হাজার বছর ধরে তারা কেবল ছুটেই পালালো, আগুনে কাঁচা ফল-মাংস রান্না তো করে খেতে পারল না। তাই স্বাভাবিকভাবেই সমগ্র প্রাণীজগতের কথা বলার পরেও আলাদা করে বলতে হয় মানুষের কথা, তার বৌদ্ধিক বিকাশের কথা, সভ্যতার উত্তরণের কথা, প্রকৃতিকে ব্যবহার করতে পারার কথা। আর এইসবই মানুষ পেরেছে কেবল মাত্র অন্যসব প্রাণীর চেয়ে উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন মস্তিষ্কের জোরে, মস্তিষ্কের ভিন্ন গঠনের জোরে। আমাদের এই উত্তরণের সবটুকু রহস্য লুকিয়ে আছে মাথার খুলির মাঝে যে নরম টিশ্যুটা, সেইখানে।