Friday, August 13, 2010

ফিনিক্স পাখির রূপকথা

সবাই যখন অনেক আনন্দ নিয়ে লেখে ছেলেবেলার কথা, আমি তখন চুপ করে পড়ি। অথবা শুনি। আমার বলা হয়ে ওঠে না ছেলেবেলার আনন্দ মাখা স্মৃতি। বলব কি করে, নেই যে আমার। সবার তো সবকিছু থাকে না। আবার এই আমারই এমন অনেক কিছু আছে, যা আমার চারপাশের অনেকেরই হয়ত নেই। তাই সেই ছেলেবেলার অনন্দহীনতা নিয়ে আমার অপূর্ণতা নেই।


আমি ছিলেম আমার বাবার ফুলকন্যা, মধুকন্যা, দুধকন্যা আরো কত্ত কী! আর মায়ের মামনি, আম্মু। মায়ের কাছে শুনেছি, আমি নাকি এতো বেশী বাবাভক্ত ছিলাম, আব্বু যেন একসপ্তাহের জন্য কোথায় ট্রেনিং এ গিয়েছিল, যেদিন ফিরে এলো, সেদিন আমি আব্বুকে ঘিরে খালি ঘুরি আর বলি, আমাত আব্বু! আমাত আব্বু! পুতুলের মত মেয়ে ছিলাম নাকি, একহাতের উপর বসিয়ে সারা কুমিল্লা শহর ঘুরিয়ে নিয়ে বেড়ানো যেতো। আর ছিলাম খুব দুষ্টু। খুব চঞ্চল। যখন হামাগুড়ি দিতে শিখেছি, তখন নাকি হামা দিয়েই চারতলার সিড়ি বেয়ে ছাদের দরজায় গিয়ে কাঁদছিলাম। দরজাটা আটকানো ছিল যে। মা আমায় কোত্থাও খুঁজে না পেয়ে হয়রান, শেষে কান্না শুনে দৌড়ে গিয়ে দেখে, তার দুষ্টু মেয়েটা, যে এখনো হাঁটতেই শেখেনি, সে কিনা বিল্ডিং এর মাথায় গিয়ে বসে বসে কাঁদছে!


তখন আমরা থাকতাম অলিপুরে, কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টে। বাসার উলটো দিকে নাকি ছোট ছোট টিলা পাহাড় ছিল। এক বিকেলে, আব্বু তার বন্ধুর সাথে পাহাড়ের উপর দাঁড়িয়ে কথা বলছে, আমি আব্বু দেখে অস্থির। তখন দৌড়াতেও শিখেছি। কখন যে আম্মুর হাত ছেড়ে আব্বুর কাছে যাওয়ার জন্য ছুট দিয়েছি! টিলাটা ছিলো রাস্তার ওপাশে। আব্বু দেখে, তার ফুলকন্যা তার দিকে ছুট দিয়েছে, আর দূর থেকে আসছে একটা মোটর সাইকেল। পাহাড় থেকে পড়ি মরি করে নেমে আব্বু আমাকে জড়িয়ে ধরে। আর এইদিকে, মোটর সাইকেল আরোহীও থামিয়ে দিয়েছিল ভুঁ সাইকেল খানা। মেয়েকে বুকের মধ্যে নিয়েই নাকি সে নিঃশ্বাস ফেলতে পেরেছিল। এই গল্পগুলো সবই শোনা গল্প, আমার স্মৃতির সাধ্যি নেই, এগুলো মনে করার। তখনও আমার বাবা মা তাদের ফুটফুটে রাজকন্যাকে নিয়ে সুখী রাজা-রানী!


আমার বয়স তখন তিন। হঠাৎ করেই একদিন আমার আম্মুর চোখে পড়ে, আমার ডান চোখটা বাঁকা। যাকে মানুষ বলে টেরা। আদর করে বলে লক্ষীটেরা। আব্বু আমায় নিয়ে গেলো ডাক্তারের কাছে। ডাক্তার আমায় দেখে টেখে সোজা আমাকে নিয়ে ঢাকায় চলে যাওয়ার পরামর্শ দিলেন। সেইসময়ের নামকরা চক্ষুবিশেষজ্ঞ ডঃ মোস্তাফিজুর রহমানকে দিয়ে দেখাতে বললেন। আমার কপাল ছিলো মন্দ। ডাক্তার তখন ছিলেন না দেশে। উনার অনুমতি নিয়েই আরেকজন ডাক্তার আমাকে নিয়ে গেলেন অপারেশন থিয়েটারে। ঐ চোখকাটা ঘরে ঢুকেই বুঝলেন, এই অপারেশন তাকে দিয়ে সম্ভব নয়।কেবল আমার ডানচোখের আইরিশে ছোট্ট একটা স্কারমার্কের চিহ্ন দিয়ে আমায় ফিরিয়ে দিলেন। বেড়িয়ে এসে বাবাকে জানালেন, এই অপারেশন সম্ভব নয়। কনজেনিটাল ক্যাটার‌্যাক্ট! জন্মের ছয়মাসের মধ্যে নির্ণয় করা সম্ভব হলে আমার এই চোখের দৃষ্টি ফেরান যেত। এখন অনেক দেরী হয়ে গেছে!চিকিৎসাবিজ্ঞান আজো আমার ক্ষেত্রে নীরবই রয়ে গেছে, বোবার মত চেয়ে রয় আমার দিকে।


সুখী রাজা রানীর চোখে মুখে বিষাদের ছায়া। বুকের মাঝে কান্না। দুষ্টু চঞ্চল মায়াবী চখের মেয়েটা যে জন্মেছেই এমন ত্রুটি নিয়ে, তা তারা কল্পনাতেও ভাবেনি। এদিকে আমিও বড় হতে শুরু করেছি।বুদ্ধি হবার পর থেকেই বুঝতে পারলাম, আমার বয়সী বাচ্চারা আমাকে টেরা বলে ডাকে! প্রায় রোজ বিকেলে খেলতে গেলে সেই ডাকটা শুনতে পেতাম। ডাকটা খারাপ কি ভালো বুঝে ওঠার আগেই দেখতাম, আমার বাবা মা শব্দটা শুনলেই মন খারাপ করে ফেলে। আমাকে বিকেলে আর খেলতে বাইরে যেতে দিতে চায় না। ঘরের মধ্যেও দেখতাম, চাচ্চু ফুপুরা কেউ কেউ যেন আমাকে একটু অবহেলাই করে। ঠিক বুঝতাম না। কিন্তু আমিও আস্তে আস্তে হয়ে যেতে লাগলাম অন্যরকম। বিকেল বেলা বের হয়, লজ্জাবতীর ঝোপের সাথে একা একা খেলি। সবুজ ঘাসের মধ্যে ঘাসফুল তুলে বেড়াই। একটু দূরেই একটা মসজিদ ছিলো, তার সামনে ছিল একটা পুকুর। সেই পুকুরে লাল শাপলা ফুটতো। রোজ বিকেলে চলে যেতাম, ফুল ফুটেছে কিনা দেখতে। দেখতাম কলমীর ফুল। দেখতাম প্রজাপতি। ওরাই আমার খেলার সাথী।


আরেকজন ছিল খেলার সাথী, রাসেল। আমার ছোট ছোট হাড়ি, পাতিল, ছোট ছোট পুতুল, এইসব নিয়ে কেবল ওর সাথেই খেলা হত আমার। কদিন পর রাসেলরা কোথায় যেন চলে গেলো। তারও কদিন পর, একদিন রাসেলের বাবা এসে কেঁদে ফেললেন। আমার সাথে রাসেলের যত ছবি ছিলো, সব নিয়ে গেলেন। আঙ্কেল চলে গেলে মাকে জিজ্ঞেস করলাম, রাসেলের আব্বু কাঁদল কেন আম্মু? আম্মুও কেঁদে ফেললেন। বললেন, রাসেল মরে গেছে। আমি তো বুঝিনা, রাসেল মরে যায় কিভাবে! কি হলে বলে, মরে গেছে, বলে কাঁদে! আম্মুর কান্না দেখে আমিও কেঁদেছিলাম…


বাবা মা বড় শখ করে আমাকে স্কুলে ভর্তি করেছিল। আমার প্রথম স্কুলব্যাগটা কিনে এনে আব্বু আমাকে বলেছিল, যাওতো, কাঁধে নিয়ে হাঁটতো! সেদিন আব্বুর চোখে যে আনন্দ দেখেছিলাম, আজো মনে পড়ে সেই হাসি। কিন্তু আমিই যে হয়ে গেছি, ফুল, পাখি, গাছ, লতা-পাতার সংগী। আরেকটু বড় হয়ে হলাম বৃষ্টির সংগী, রোদের সংগী!


ছেলেবেলার কথা আমার মনে করতে ইচ্ছে করে না। মনে হলেই আমার সেই রজনীগন্ধা গাছটার কথা মনে পড়ে যায়, আমার আবদারে যেটা আব্বু আমায় এনে দিয়েছিল। তাতে যেদিন প্রথম ফুল ফুটল, আমার ছোট্ট ভাই, হাঁটি হাঁটি পা পা করে হেঁটে গিয়ে ভেঙ্গে দিয়ে এলো গাছের মাথাটা। মনে পড়ে সেই টাইম রোজ গাছ গুলোর কথা, যেগুলো লাগানোর কদিন পরেই, মুরগীতে ঠুকরে ঠুকরে নষ্ট করে দিয়েছিল। বাঁচেনি সেগুলোও!


এতোগুলো বছর সেই বিষন্ন ছেলেবেলা বয়ে বেড়াচ্ছি। আমার চলাফেরা এতো স্বাভাবিক, আমাকে দেখলে সবাই ভাবে কী উচ্ছল মেয়েটা। দ্যূত্যিতে ঝলমলে! পৃথিবী আমায় অবহেলা করেছিল বলেই, বাবা মায়ের আদরটা পেয়েছি বাড়াবাড়ি রকমে। তাদের বুকে আমায় নিয়ে যে নীরব কষ্ট ছিল, তা আমি একের পর এক মুছে দিয়েছি। তারা আমায় নিয়ে আজ তৃপ্তির হাসি হাসে, গর্বে, অহংকারে।তারা বিশ্বাস করে, তাদের রাজকন্যা সব বাধা উপেক্ষা করে জয় করতে জানে। যারা আমার দিকে তাকাতো অবজ্ঞাভরে, তাদের চোখও আজ বিস্ময়ে বিস্ফোরিত হয়ে যায়। তারাও ভুলে যায়, অনেকবছর আগের দিন গুলো।


এইতো আমি চেয়েছিলাম, চেয়ে যাবো আজীবন। প্রতিটা দিনকে জয় করার প্রত্যয়ের দিপ্তী!


[প্রথম প্রকাশঃ ৭ই আগস্ট, ২০১০]

আস্তিক অথবা নাস্তিকঃ সোফির জগৎ এবং আমি-১

মাত্র গতকাল, বইমেলা থেকে কিনে আনলাম জি এইচ হাবীবের অনুবাদকৃত ইয়স্তেন গার্ডারের লেখা সোফির জগৎ বা SOFIES VERDEN. বইটা হাতে নিয়ে থেকেই আমি খুব বেশী উত্তেজিত! আমার মনের ছন্দটা আসলে সবচেয়ে বেশী উদীপ্ত হয়ে ওঠে মনস্তত্ত্ব আর দর্শনের সমন্বয়ে। আর এই বইটা তেমনি একটি। আমার বিস্মিত হওয়ার ক্ষমতা কতটুকু আমি জানিনা, তবে প্রথম অংশটুকু পড়েই আমি লিখতে বসে গেছি, বিস্ময়ে! গত দশ-এগারো বছর ধরে আমি যে প্রশ্নের উত্তর খুঁজছি, সেই প্রশ্নটি হল, পৃথিবীটা কোথা থেকে এলো? প্রশ্নটা দেখে বিস্মিত হইনি, হয়েছি সোফির ভাবনা দেখে, ঠিক যেভাবে আমি ভেবেছি, হুবহু সেইভাবেই সোফি ভাবছে! সৃষ্টিকর্তা আছেন কি নেই? আরেকটু অবাক হয়েছি, এটা খেয়াল করে, এই প্রশ্নের মুখোমুখি আমি যখন হয়েছি, সেই বয়সটা ছিল তের-চৌদ্দের সন্ধিক্ষণ, সোফির চেয়ে সামান্য কিছু কম! পার্থক্য এটুকুই, আমাকে কেউ চিরকুট পাঠায় নি। আফসোস লাগছে।


জন্মেছি ধর্মভীরু বাবা-মায়ের ঘরে। কিন্তু আমার শৈশবের নায়ক আমার দাদু! কে তিনি? তিনি একজন মানুষ, যিনি কখনও আমাকে সরাসরি কিছু শেখাননি। শুধু আমার এই পূর্বসুরীর কাছ থেকে আমি জেনেছি, চিন্তা করতে হয়। আমি আমার দাদুর সান্নিধ্য আসলেই খুব কম পেয়েছি! কিন্তু যেটুকু দেখেছি তাকে, বুকের নীচে একটা বালিশ দিয়ে উপুর হয়ে শুয়ে কি যেন পড়ছেন নাহয় কি যেন লিখছেন! পেশায় স্কুল শিক্ষক ছিলেন। ১৯৪২ সালে প্রেসিডেন্সি কলেজে পড়তে পড়তে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা অসমাপ্ত রেখেই সেই যে গ্রামে ফিরে এলেন, আর কোনদিন ওমুখো হলেন না। সারাজীবন শুধু নিজেই পড়লেন। নিতান্ত সাদামাটা জীবন যাপন করলেন। আমি আমার স্মৃতি ঘেটে কোনদিন দেখিনি দাদুকে ঘরের ভিতরে ঘুমাতে। বারান্দায় একটা চৌকি পেতে তার উপর একটা পাটি আর একটা বালিশ! সাথে ঋতু ভেদে কাঁথা কিংবা লেপ! এইভাবে থাকার কারণ কি তা আমার কাছে একটা রহস্য! উত্তর জানা নেই। শীত গ্রীস্ম, ঝড় বৃষ্টি কিছুই তাকে ঘরের ভিতরে নিতে পারেনি। খোলা বাতাস গায়ে মেখে নব্বই বছর পার করে দিলেন! ওইখানে শুয়ে শুয়ে কি পড়েছেন? তার আগ্রহের বিষয় ছিল, ধর্ম ও দর্শন! সারাজীবনে কি শিখেছেন এতো পড়ে, তা কতটুকু ঠিক ছিল বা ভুল ছিল, আমি তা বিচার করতে যাই না। আমি শুধু জানি, আমি দাদুর কাছ থেকে শুধু তার উপস্থিতির কারণেই কিছু জানার আগ্রহ পেয়েছি। এই না হলে আমি আর এই আমি হতাম না। উত্তরসূরী হিসেবে এই আমার সবচেয়ে বড় পাওয়া!


দাদু পনের সন্তানের গর্বিত জনক। উনার পাঁচ কন্যা জানেনই না, আস্তিকতা বা নাস্তিকতা ভাবার মত একটা বিষয়। তিনপুত্র ধর্মভীরু, প্রকৃত অর্থেই উনারা ধর্মকে ভয় পান। একজন গোঁড়া ধার্মিক। দুইজন বুঝে উঠতে পারেন না ধর্ম আসলে কি, আস্তিকতা বা নাস্তিকতা এইসব নিয়ে ভেবে কি হবে, জীবন তো সুন্দর চলে যাচ্ছে। আর অবশিষ্ট তিন পুত্র নাস্তিক। আর আমি হলাম ভাগ্যবতী, এমন একটা বহুমাত্রিক পরিবারের অংশ বলে। তাই ছোটবেলা থেকেই এইসব নিয়ে ভেবেছি। চোখের সামনে এমন বিশ্বাসের বিভিন্নতা দেখে স্বাভাবিক ভাবেই চিন্তা করেছি, ঈশ্বর আছেন কি নেই? অনেক জায়গাই যুক্তি দিয়ে ঈশ্বর কে খুঁজে পাইনি, আবার যুক্তি দিয়ে খুঁজে পাইনি বলে ঈশ্বর নেই, এটাও ভেবে বসে থাকিনি। ভেবেছি, অনেক ভেবেছি। অবশেষে বিগ ব্যাং থিওরী যখন আমাকে শেখালো, একটা কেন্দ্রীভূত ভর থেকে মহাবিশ্বের বিস্ফোরণ, গ্রহ নক্ষত্রের ক্রমাগত বিস্তৃতির ব্যাপারটা যখন জ্যোতির্বিজ্ঞানের পর্যবেক্ষণ সমর্থন করে বলে জানলাম, তখন বিগ ব্যাং কে মেনে নিলাম। কিন্তু একটা কেন্দ্রীভূত ভর থেকেই যদি সবকিছু সৃষ্টি হয়ে থাকে তাহলে সেই কেন্দ্রীভূর ভর এলো কোথা থেকে? ওইটা কি শূন্য থেকে এলো? না তা হতে পারে না। নাকি নিজে নিজেই তৈরী হল? না, তা হতে পারে না। তাহলে কি আসলেই কেউ ঐ কেন্দ্রীভূত ভর সৃষ্টি করেছে? কে সে? সে-ই কি ঈশ্বর? তাহলে কি আসলেই ঈশ্বর আছেন? এই জায়গাই গিয়ে আমার যুক্তি যে থেমেছে... আমি এখনও তা অতিক্রম করতে পারিনি। কোন যুক্তি দিয়ে এই প্রশ্নের সন্তুষ্ট হবার মত উত্তর পাইনি বলেই ঈশ্বরের অস্তিত্বকে স্বীকার করে নিয়েছি। সেই প্রথম বিশ্বাস করেছি, ঈশ্বর হয়ত আসলেই আছেন। যেহেতু বিশ্বাস করি, তাই আমি আস্তিক। কিন্তু এখনও কিছু বিশ্বাসের মাঝেও কিছু জায়গা রেখেছি, যুক্তির জন্য। আমার ছোট কাকার সাথে এসব নিয়ে আমার অনেক কথা হয়। কাকুকে ক্লাস এইটে পড়ার সময় একবার জিজ্ঞেস করেছিলাম, আপনি যদি আমাকে যুক্তি দিয়ে বুঝাতে পারেন, সৃষ্টির রহস্য অন্যকিছু, আমি নির্দ্বিধায় যুক্তির কাছে মাথা নত করে দেব। কাকু সেদিন পারেনি। আবারো জিজ্ঞেস করেছিলাম, দ্বাদশ শ্রেনীতে পড়ার সময়, কেন আপনি নাস্তিক? সৃষ্টিরহস্য নিয়ে আমি যে প্রশ্ন করেছি আপনাকে, এর উত্তরে কিছু বলেন আমাকে। উত্তরে বলেছিলেন, তুমি বড় হও, নিজেই বুঝবে। এরপর আরো ছয় বছর কেটে গেছে। আমি আজো যুক্তি দিয়ে সমাধান পাইনি। অনেকেই অনেক রকম উত্তর দেয়। আমি সন্তুষ্ট হতে পারিনা। আর যারা কঠিন ধর্মভীরু, তাদের সাথে তো যুক্তি দিয়ে কথাই বলা যায় না। আমি জানিনা, মৃত্যুর আগে পদার্থবিজ্ঞান বা গণিতের সূত্রের মত কোন নিশ্চিত প্রমাণ পাব কিনা এই প্রশ্নের উত্তরে। আশাই আছি।


আমি আস্তিক বা নাস্তিক কোন দলকেই অসম্মান করি না। এটা যার যার ব্যক্তিগত ব্যাপার, সে কি বিশ্বাস করে। আমি শুধু বলতে চাই, বিশ্বাস এবং প্রমাণ দুটো আলাদা জিনিস।

[কাউকে না বুঝে আঘাত করে থাকলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।]
প্রথম প্রকাশ সচলায়তনে 


February 9, 2010 [ Last six month have changed my thought a lot. I wish write it in my blog in time :) ]

আমি কথা কই কালপুরুষের সাথে

সপ্তর্ষি আমায় লেখে না চিঠি।
কেবল সেই রাতে,
জীবনের অনন্ত প্রশ্ন বুকে নিয়ে,
চোখ রেখেছিল চোখেতে।
আমি ফিরিয়েছিলাম হৃদয় আমার,
ভীষন অভিমানে।


আমি কথা কই কালপুরুষের সাথে ।
মধ্যরাত্তিরে,
দীপখানি জ্বেলে,
রানারের মত মহাকালের ডাক বয়ে,
অন্তহীন চলছে সে ছুটে।


আমি চিঠি লেখি সময়ের কাছে ।
কালপুরুষের ডাকে দিয়েছি সে চিঠি ফেলে।
আমি কথা কই কালপুরুষের সাথে।