Friday, May 6, 2011

বাবার জন্য

প্রিয় বাবা,

কোনদিন তোমাকে আমার তুমি করে ডাকা হয়নি। সেই ছোট্টবেলা থেকে আমাকে আপনি বলতে শিখিয়েছ। কোনদিন আমার মুখ ফুটে বলা হয়নি, আমার বাবাকে আমি কতটা ভালোবাসি। বলতে পারিনি বলেই হয়ত আজো তোমাকে ছাড়া প্রিয়তম শব্দটা আমি আর কাউকে দিতে পারলাম না। আজ নিভৃতে বসে তোমাকে চিঠি লিখছি, বুকের মধ্যে একরাশ অভিমান নিয়ে লিখছি। অনেক অভিমান আমার, বড় হবার পর থেকে কোনদিন আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দাওনি বলে। কেবল নীরবে ভালবেসেছো, আর আমাকেও তোমার মত করেই নীরবে ভালোবাসতে শিখিয়েছ। সবাই যখন বলত, আমি একদম তোমার মত, আমার কি যে আনন্দ লাগতো। জমির কাকু যে তোমার ছোট্ট মেয়েকে দেখে বলেছিল, "Like father, like Daughter", আর তুমিও খুশিতে আত্মহারা হয়ে সবাইকে শুনিয়ে বেড়াতে লাগলো। তখনকার কথা তো আমার মনে নেই, কিন্তু মনে থাকার বয়স থেকে এতোবার শুনেছি এই কথা, আমি যেন দেখতে পাই... সবাই বলত, আমি দেখতে তোমার মত হয়েছি, আমি তোমার মত করে হাসি, তোমার মত চুল আমার, আর তোমার মতই পাগল আমি। পাগলের বাচ্চা উপাধি তো তোমার জন্যই পেয়েছি, তাই না বাবা? আজ পর্যন্ত জীবনে তোমাকে কয়েকটি সুন্দর মুহূর্ত ছাড়া কিছুই দেইনি। দিতে পারিনি। অথচ তুমি আমাকে নিয়ে স্বপ্নের পর স্বপ্ন দেখে গেছ। কয়েকবছর আগে মা যে কানের দুলটা দিয়েছিল, সেটা কোথায় রেখেছি, আমার মনেই নেই। কিন্তু সেই ছোট্ট বেলায় দূর বিদেশে বসে আমার জন্য প্রথম যে ছোট্ট দুটো কানের রিং পাঠিয়েছিলে, সেটা এখনো আমি সযত্নে রেখেছি। ওগুলো এখন আমার সবচেয়ে ছোট আঙ্গুলটাতেও ঢুকে না, কিন্তু আমি মাঝে মাঝেই পড়ে বসে থাকি। বড় হতে ইচ্ছা করে না বাবা। ছোট্ট শাতিল হতে ইচ্ছা করে আবার। এবার আমি তোমাকে কিছু দিতে চাই, অন্তত দেয়ার চেষ্টাটুকু করব আমি। আমার যে বাবাকে পৃথিবীর সবাই অবজ্ঞা করেছে, অবহেলা করেছে, তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করেছে, তাকে আমি সবার চেয়ে গর্বিত আসনে নিয়ে যেতে চাই। তোমার হাসিটুকু ধরে রাখতে চাই আমার ছোট্ট দু'হাতে। সারাটা জীবন তো দিয়েই গেছ, কিছুই পাওনি তুমি, এবার আমাকে শুধু আশীর্বাদটুকু দাও, আমার জন্য তোমাকে যেন কষ্ট পেতে না হয়, আমি যেন তোমাকে তোমার গর্বটুকু দিতে পারি। আমি যেন তোমার সব না পাওয়া মুছে দিয়ে সমস্ত জীবনের সাফল্য হতে পারি, তোমার সবচেয়ে সুন্দর সৃষ্টি হতে পারি। ভালো থেকো বাবা, আমৃত্যু। আর তোমার হাসিটুকু রেখো আমার জন্য।


ইতি-
তোমার
,ফুলকন্যা
,দুধকন্যা
মধুকন্যা।