মহাবিশ্বের এক ছোট্ট গ্রহে বসবাস আমাদের, এই জীবজগতের অসংখ্য উদ্ভিদ এবং প্রাণীর এবং তাদেরই একাংশ হয়ে মানুষের। হ্যা, জীবজগত, উদ্ভিদ, প্রাণী এসবকিছু বলার পরেও বিশেষভাবে আলাদা কর বলা প্রয়োজন হচ্ছে মানুষের কথা, যারা আদতে আর দশটা প্রাণীর মতই প্রাণীকূলের আরেকটি প্রজাতি মাত্র। তবু কেন এইভাবে আলাদা করে বলতে হচ্ছে? কারণ, এই যে আমি লিখেছি, আপনি এখন পড়ছেন, ঠিক এইভাবে আর কোন প্রাণী পারছে না লিখতে পড়তে। আমি ভাবছি, আপনাকে ভাবাচ্ছি, এমনি করে কত না নানান ভাবে প্রতিমুহূর্তে আমরা করছি যোগাযোগ। চিন্তা করুন সে সময়ের কথা, যখন মানুষ আগুন দেখে ভয়ে পালাতো, মানুষের বসবাসের জঙ্গলগুলো আগুনে পুড়ে হতো ছারখার। ডালে ডালে ঘর্ষণে যে আগুনের স্ফুলিঙ্গ সৃষ্টি হত, শুকনো পাতায় ছড়িয়ে পড়ে সে আগুনের ফুলকি থেকে সর্বগ্রাসী দাবানল কেড়ে নিতো মানুষের প্রাণ, স্থান আর সঙ্গঘবদ্ধতা, তাকে ভয় না পেয়ে উপায় কি ছিল? তবু সেইকালে মানুষ চিন্তা করেছে, কেন এই আগুন? কেন আকাশ থেকে আসে বজ্রের গর্জন। তারা জানেনা কিছুই, জানার নেই উপায়ও কোন। কিন্তু প্রশ্নটা ঠিকই করে ফেলেছে। অজ্ঞতা থেকে হয়ত সেদিন আগুনের আক্রোশ মেটাতে পূজো দিয়েছে আগ্নিদেবকে, সে মানুষের ব্যর্থতা নয়, বরং সাফল্য এইখানেই, মানুষ প্রশ্নটা করে ফেলেছে নিজেদের কাছে, খুঁজতে শুরু করেছে উত্তর! আর এইভাবেই কোন এক অতি আদিম যুগে ঘটেছিল বুদ্ধির উন্মেষ। সেই মানুষ, আজ জ্ঞান বিজ্ঞান সভ্যতা, সংস্কৃতি, সমাজ কতকিছুর ধারক ও বাহক! সেই আদিম এক বুদ্ধির উন্মেষ কোথায় নিয়ে এসেছে মানুষকে। কিন্তু কই, আর কোন প্রাণীতো পারেনি এই উত্তোরণে সামিল হতে। বনে আগুন লাগলে আজো বন্যপশুরা প্রাণ বাঁচাতে ছুটে পালায়, কিন্তু হাজার হাজার বছর ধরে তারা কেবল ছুটেই পালালো, আগুনে কাঁচা ফল-মাংস রান্না তো করে খেতে পারল না। তাই স্বাভাবিকভাবেই সমগ্র প্রাণীজগতের কথা বলার পরেও আলাদা করে বলতে হয় মানুষের কথা, তার বৌদ্ধিক বিকাশের কথা, সভ্যতার উত্তরণের কথা, প্রকৃতিকে ব্যবহার করতে পারার কথা। আর এইসবই মানুষ পেরেছে কেবল মাত্র অন্যসব প্রাণীর চেয়ে উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন মস্তিষ্কের জোরে, মস্তিষ্কের ভিন্ন গঠনের জোরে। আমাদের এই উত্তরণের সবটুকু রহস্য লুকিয়ে আছে মাথার খুলির মাঝে যে নরম টিশ্যুটা, সেইখানে।