Friday, September 10, 2010

মুরগীর বংশধর

একটা গল্প বলি শোন, এক যে ছিল বাপ সোহাগী কইন্যা। কইন্যা তো না যেন একটা খেলার পুতুল! পুতুলটার নাম ছিল শাতিল। বাচ্চাদের খেলার পুতুল যেমন হাল্কা হয় শাতিল ও ছিল তেমনই হাল্কা, সারাদিন বাবার হাতের উপর বসে ঘুরে বেড়াতে চাইত। বাপ সোহাগী কইন্যা-- এটা শাতিলের মায়ের দেয়া নাম, কথাটা অবশ্য ভুল না। যে মেয়ে তোমার হাসি তোমার বাবার মত এ কথা শুনলেই খুশি হয়ে যায় তাকে আর কি বলা যায়। তো এই শাতিল নাকি ছেলেবেলায় মায়ের কোলে না ঘুমাতে চাইত না, ঘুমাতে হলে নাকি তার বাবাকেই লাগবে। বাবার বুকের উপর না ঘুমালে নাকি তার ঘুম আসে না, দোষ কি শাতিলের? বাবাই তো সেই ছোট্ট মেয়েটার অভ্যাস খারাপ করে দিয়েছিল, তবে মেয়েটাও কম দুষ্টু ছিল না, এত্তো আদর করত, তবু দুষ্টু মেয়েটা ওর আব্বুকে অনেক কষ্ট দিত। ওর কান্না থামানর জন্য বাবা যদি  বলত ছবি একে দেই? তখন তাকে মুরগীর বাচ্চা একে দিতে হত। মুরগীর বাচ্চা কি খাবে? এবার তাহলে কাঁঠাল একে দিতে হবে।  আব্বু শাতিলকে মুরগীর বাচ্চা একে দিতো, তারপর একে দিতো একটা কাঁঠাল, মুরগীর বাচ্চা নাকি কাঁঠাল খায়! শাতিলের যন্ত্রনা তখন আর বেড়ে যেত, মুরগী কেন কাথাল খাবে? কেন অন্য কিছু খাবে না? কাথাল এত বড়ো কেন? মুরগীর বাচ্চা এত ছোট কেন? মুরগীর বাচ্চা কিভাবে কাথাল খাবে? সেই সাথে জুড়তো চিৎকার করে কান্না, মামনি বসে বসে দেখতো বাপ-মেয়ের কান্ড-কীর্তি । পাগল বাবার পাগলী মেয়ে! পাগলী মেয়েটার কচি মাথায় তখন মুরগীর বাচ্চা কি খায় শুধু এই চিন্তা। একদিন সে তার আব্বুর উপর রাগ করল। আব্বু নাকি তার কথা শোনেনি! এটা তো ঠিক না, ভারী অন্যায়ের কথা! আব্বু কেন শাতিলের কথা শুনবে না? সে হাত-পা ছুড়ে কাদতে শুরু করল... শাতিলদের সাথে থাকতো ওর তিন  কাকা, সবাই মিলে ওকে ক্ষেপাতে শুরু করল। পাগলীটা ভেউ ভেউ করে কাঁদছে, কাঁদতে কাঁদতে আবার চোখের পানিও মনে হয় খেয়ে ফেলছে! একদম চিয়া পাগলীর মত লাগছে ওকে! জানো শাতিল, চিয়া পাগলী ও না তমার মত চোখের পানি খায় তুমি কি তাহলে আমাদের চিয়া পাগলী? শাতিলের গেল মেজাজ চড়ে, এত্তো বড় কথা? মামনি ছাড়া আর কেউ পাগলী বললে ওর সহ্য হয় না,  আর ওকে কিনা বলছে চিয়া পাগলী? কি করা যায়? শেষে রাগের চোটে শাতিল বলেই ফেলল,  সবাই একেকটা মুরগীর বাচ্চা! এটা শুনে বাবা- মা- কাকাদের সে কি হাসি!! অট্টহাসি যেন থামতেই চাই না!!.. আমরা যদি মুরগীর বাচ্চা হয় তাহলে তোমার দাদি মুরগী,  তাহলে তুমি কি? মুরগীর বংশধর? শাতিল তাহলে মুরগীর নাতনী

অসহায় চক্ষে চেয়ে থাকা ছাড়া শাতিলের আর কিছুই করার ছিল না,  এবার সে কাঁদতেও ভুলে গেছে!

No comments:

Post a Comment