Monday, September 2, 2013

স্বপ্নের ঘোর লাগা নেশা

কোন রকম আশা ছাড়াই তিনটা মেইল করলাম। হাল ছেড়ে দেবার কোন অভিপ্রায় নেই বলেই চেষ্টাটা চালিয়ে যাচ্ছি। নিউরোসায়েন্সে কোন একাডেমিক ডিগ্রী নেই বলে আগ্রহ বিসর্জন দিতে পারবো না। অনেকটা যেন আকাশে তীর ছুড়ছি। জানি রিজেকশনটাই স্বাভাবিক, তবুও যেন একধরণের নেশা এটা। আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে কম্পিউটেশনাল নিউরোসায়েন্স, হোল প্যাচ ক্ল্যাম্প ইলেকট্রোফিজিওলজি বা স্পাইকিং নিউরাল মডেল আকাশ কুসুম স্বপ্ন। তাও আবার আদ্যোপান্ত ইঞ্জিনিয়ারিং পড়া একটি মেয়ের স্বপ্ন এগুলো!

দেশের বাইরে প্রথমবার পা রাখবার পর থেকেই বুকের মধ্যে একটা চিনচিনে ব্যথা অনুভব করতাম। চোখ গড়িয়ে কখন জল পড়ে যেতো টের পেতাম না। দুবছর পরে দেশে ফিরে প্রথম যা চোখে পড়েছিল তা হল বাংলাদেশের মানুষের অসুখী চিন্তাক্লিষ্ট চেহারা। যে দেশে মানুষের খাবার যোগাড় করতে হিমশিম খেতে হয় সেই দেশে যে এমন সুখের ছড়াছড়ি হবে, বলাই বাহুল্য। সাথে মনে পড়ে গেলো কোরিয়ান মুখগুলো। কোরিয়ান ওয়ারের ফলশ্রুতিতে যারা নিতান্ত ক্ষুধায় কাতর হয়ে ঘাষ থেকে শুরু করে কুকুর পর্যন্ত খেয়েছে, তারা যদি স্বপ্ন দেখতে জানে, আমি নই কেন? যা কিছু শেখা সম্ভব এই বিরাট পৃথিবী থেকে সবই শিখতে চাই আমি। দেশের জন্য তো বটেই বিশ্ব মানবতার জন্য। যে অদ্ভুত আগ্রহ নিয়ে আমি কাজ করতে জানি, পৃথিবীতে খুব কম মানুষই পারে এমন পাগল হয়ে যেতে কাজের মাঝে। বাংলাদেশের বর্তমান প্রযুক্তি কিংবা বিজ্ঞানের অবস্থার কথা ভেবে স্বপ্নে ছাড় দেবার কোন মানে নেই। আজ থেকে পঞ্চাশ বছর পর, যখন আমি মারা যাবো তখন বাংলাদেশ এমন থাকবে না। হয় আরেকটা আফগানিস্থান হবে না হয় বর্তমান কোরিয়ার মত হবে নিদেনপক্ষে। দেশের গতিবিধি আফগানিস্থানের মত হলে সানন্দে কষ্ট ভরা বুকে ভুলে যাবো আমি বাংলাদেশ নিয়ে স্বপ্ন দেখতাম। কিন্তু তবুও আমার বিশ্বের জন্য কিছু করার দায়টুকু, ইচ্ছেটুকু, প্রয়োজনটুকু মিটে যাবে না। আমাকে  যেতে হবে পথের শেষ পর্যন্ত, আমার কি করার আছে তা জানতে।

আমার এই চিন্তাগুলো যেন অনেকটা সক্রেটিসের মত। হেমলকের পাত্র হাতে নিয়েও যে স্বপ্নের নেশা ভোলে না। আগামীদিনের কথা ভোলে না। সহস্রাব্দে না পারি একটি শতাব্দীতে অন্তত চিহ্ন রেখে যাবার নেশা সামাল দিতে পারি না।
স্বপ্নের ঘোর লাগা নেশা।

No comments:

Post a Comment